প্রায় ৪০ বছর সরকারি চাকরির সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখান থেকে অবসরের পর এখন ভোটের মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী।
ভোট প্রার্থনায় মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। জানছেন, তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা। খবর নিচ্ছেন, উন্নয়ন বঞ্চিতদের। ভোটের মাঠের প্রচারের শেষ দিনে ব্যস্ততার মধ্যেই একাত্তর অনলাইনের সঙ্গে কথা হলো তার।
কেমন সাড়া পাচ্ছেন, প্রশ্ন করতেই আবুল কালাম আজাদের উত্তর, ‘আমার ভালোই চলছে, এলাকার মানুষের উচ্ছ্বাস, সমর্থন- সবকিছু ভালো পাচ্ছি আমি। পরিস্থিতি ভালোই মনে হচ্ছে।
‘আমি বলি, আপনারা (ভোটার) যদি আমাকে যথার্থ ভালোবাসা দেন, তাহলে আমি নির্বাচনের পরে আপনাদের ভালোবাসা শতগুণে বৃদ্ধি করে ফেরত দেবো,’ বলেন তিনি।

প্রশাসনের চাকরির সময় চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন নৌকার এই মাঝি। ১৯৮২ বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ।
এরপর বিদ্যুৎ সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব সামলেছেন আবুল কালাম আজাদ। ২০২০ সালের জুনে তিনি নিয়োগ পান জাতিসংঘের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিশেষ দূত হিসেবে।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার ৪০ বছরের চাকরি জীবনে ২০ বছরের বেশি সময় তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। আর চাকরি জীবনে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নই ছিলো তার প্রধান লক্ষ্য।
‘দেখুন, আমি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলাম, ডিসি ছিলাম, এমনকি এসডিজি, জলবায়ু বিষয়ে যেসব কাজ করেছি, তা সবই মানুষের উন্নয়নের জন্য,’ বলেন তিনি।
১৯৫৭ সালের ৭ জানুয়ারি জামালপুর সদর উপজেলার দেওয়ান পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল কালাম আজাদ। কাকতালীয়ভাবে ভোট গ্রহণের দিন তিনি ৬৭ বছর পূর্ণ করে ৬৮তে পা দিবেন।
জামালপুর জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগ থেকে করেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।
জন্ম ও বেড়ে ওঠার সূত্রে জামালপুর শহর তার চেনা বহুদিনের, রয়েছে নাড়ির টান, বাবার কবরসহ পরিবারের অন্যান্যদের বসতি। তাই জামালপুর-৫ আসনের মানুষের সমস্যা কোথায়, জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাদের আশা আকাঙ্ক্ষাগুলোও জানতে চাচ্ছেন তিনি।

আজাদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেয়ার বিধান নেই। তবে আমি এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। বলেছি যে, এই সমস্যাগুলো আমি দেখেছি, এই সমস্যাগুলো আছে এবং এগুলোর সমাধান হওয়া দরকার। এটা ঠিক প্রতিশ্রুতি আকারে না, পরোক্ষভাবে বলা।’
তার ভাবনা, মানুষ যে ভালোবাসা দিচ্ছে, সেই ভালোবাসার প্রতিদানের মূল্যের মধ্যে কি তাদের স্কুলটা নাই, তারমধ্যে কি তাদের মসজিদ, রাস্তা নাই?
তিনি বলেন, ‘মোদ্দাকথায়, তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা। অনেক কাঁচা রাস্তা আছে, সেগুলো পাকা করতে হবে। আবার অনেক পাকা রাস্তা আছে, কিন্তু খারাপ হয়ে গেছে, সেগুলো মেরামত করতে হবে। অনেক সরু রাস্তা চওড়া করতে হবে।
‘স্কুলগুলো সম্প্রসারণ করা, স্বাস্থ্যসেবার পৌঁছে দেয়া এবং যেখানে ফায়ার স্টেশনের চাহিদা রয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ব্যবস্থা নেবে,’ বলেন আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, কিন্তু এলাকার মানুষের মূল দাবি কাচা রাস্তা পাকা করা।’

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশে চোখ ধাঁধানো যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তা খুব কাছ থেকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব সামলেছেন আবুল কালাম আজাদ। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এমনকি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, সবকিছুর মধ্যেই ছিলো তার উপস্থিতি।
আর নিজে প্রথম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। এসডিজির অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে বাংলাদেশ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের সামনে এখন স্মার্ট ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য। লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়নের।
‘আমি আগে কর্মী হিসেবে বাস্তবায়ন করেছি। মানুষ আমাকে নির্বাচিত করলে হয়তো নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবো। গুণগত শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে স্মার্ট ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হবে লক্ষ্য,’ বলেন জামালপুর-৫ আসনে নৌকার এ প্রার্থী।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি মিলবে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর। সামনে রয়েছে দুই বছরের কম সময়। তবে স্বীকৃতি পেতে বাংলাদেশকে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
অনেক দেশ সুযোগ পেয়েও চূড়ান্ত উত্তরণে ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশ সঠিকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন আবুল কালাম আজাদ।
বাংলাদেশে পরাজিত হতে যাচ্ছে বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল