দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছেন এ কে আজাদ। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকা প্রতীকের শামীম হককে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন তিনি। নির্বাচনের মাঠে প্রথম থেকেই এই আসনে নানা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলেছে, হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ কে আজাদ প্রথমে দলের মনোনয়ন চান। নৌকা প্রতীক না পেয়ে শেষে স্বতন্ত্র হিসেবে ঈগল প্রতীকে লড়ছেন। ভোটের আগের জেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে বহিষ্কারও করা হয় তাকে। নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসনে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ পান এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শামীম হক পান ৭৫ হাজার ৮৯ ভোট।
সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের কাজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদে ভূমিকা, দলীয় অবস্থান সবকিছু নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলেছেন এ কে আজাদ।
একাত্তর: স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে কী ভূমিকা রাখবেন সংসদে?
এ কে আজাদ: আমি একটি দলের আদর্শে বিশ্বাস করি। দলের নমিনেশন চেয়েছিলাম পাইনি। দলের সভাপতি অনুমতি দিয়েছিলেন তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলাম। তারপর নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে আমি মনে করি, সরকারের যদি কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে তা ধরিয়ে দেব বিনয়ের সাথে। বলবো, এটা না করে এটা করা উচিত এবং সরকারকে দিকনির্দেশনা দেব।
একাত্তর: কী ধরনের মতামত দিবেন?
এ কে আজাদ: আওয়ামী লীগ নির্বাচনে একটি ইশতেহার দিয়েছিল। রাজনৈতিক এ ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী দু'টি বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, জবাবদিহিতা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। এ দুটোর ব্যাপারে আমি যথাযথ ভূমিকা রাখবো।
একাত্তর: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কী ভূমিকা রাখতে চান?
এ কে আজাদ: আওয়ামী লীগে আমার একটি পদ আছে। আমি নমিনেশন চেয়েছিলাম পাইনি, স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী সেজন্য নির্বাচন করেছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার কিছু সুবিধা আছে সরকার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমি ভোট দিতে পারব এখানে ফ্লোর ক্রসিং হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক ইশতেহার দিয়েছেন তার ভিত্তিতে আমি কথা বলব এবং সাজেশন রাখবো। সেখানে যদি জবাবদিহিতার কোন ঘাটতি থাকে সেখানে মতামত তুলে ধরব। এ ব্যাপারে আমার ভূমিকা থাকবে সক্রিয়।
একাত্তর: সংসদ নেতা আপনাদের ডেকেছেন কী আলোচনা হবে?
এ কে আজাদ: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের রোববার ডেকেছেন, এই কথাগুলো ওনাকে বলবো। নিশ্চয়ই উনি আমাদের মতামত জানতে চাইবেন। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাবো যে, আপনি স্বতন্ত্র দাঁড়ানোর অনুমতি দেয়ার কারণেই আমরা আজ সংসদ সদস্য হতে পেরেছি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা যেন যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারি, জনগণের যে প্রত্যাশা তা যেন প্রধানমন্ত্রী কাছে বা সংসদে তুলে ধরতে পারি সে বিষয়টি আমরা তার কাছে তুলে ধরব, যেটি দলীয় ফোরাম বা নৌকা প্রতীকে থাকলে সম্ভব হতো না। সেগুলো আমরা তুলে ধরব যাতে দল উপকৃত হয়, দেশ উপকৃত হয়। আপনার স্বপ্ন পূরণ হয় সে জন্যই কাজ করবো।
একাত্তর: আপনাকে ধন্যবাদ।
