ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন, মাঠ প্রশাসনে রদবদলের ক্ষেত্রে ‘লটারি’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।

বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে এনসিপি নেতারা নির্বাচনকালীন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি তাঁরা উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা বেশ কিছু আধুনিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের শরীরে বডি ক্যামেরা থাকবে। একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে।
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের জন্যই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল হয়েছে। এবারের নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন, দেশ পাল্টে দেয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতেই হবে। তিনি জানান, কেউ আইন অমান্য করলে সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার আইনসম্মতভাবেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছে। তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোট কেন দেয়া প্রয়োজন এবং এর সুফল কী, তা আমরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে তিনি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি নেতাদের আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
