জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রোববার (১৯ এপ্রিল) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে এদিন পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একজন কর্মকর্তা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে বিটিসিএল-এর ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে দিনের কার্যক্রমের শুরুতেই চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে আগে সাক্ষ্য দেওয়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জেরা শেষ হওয়ার পর পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।
মামলার বর্তমান চিত্র এই মামলার দুই প্রধান আসামির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে মূলত তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ফেসবুকে উসকানি দেন জুনাইদ আহমেদ পলক। এর ধারাবাহিকতায় পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।
আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়ে মারণাস্ত্র ব্যবহারের উসকানি ও প্ররোচনা দেন। এতে পুলিশ ও দলীয় বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন শহীদ হন।
মামলার তিন নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিরা সরাসরি সহায়তা করেছেন।
বিচারিক প্রক্রিয়া গত বছরের চার ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ আমলে নেন আদালত। এরপর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার বিচার কাজ শুরুর আদেশ দেন। আজ সেই বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
