একটা নয়, দুইটা নয়, দশ উইকেটের দশটাই পেসারদের দখলে। নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়টাও সহজ হয়েছে সেখানে। আইপিএলের হাতছানি, বিসিবির আগলে রাখা, বিদেশে ম্যান উইনিং পারফর্ম করা-পেসারদের এই সাফল্য পুরোটাই এসেছে একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে।
স্টাইলের সাথে ফিনিশিং যাকে বলে। এক দৌড়ে ১৬ বছরের দূরত্ব পার। শান্তর ডাবলসে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক ওয়ানডে জয় বাংলাদেশের। তবে ব্যাট যারই হোক, ম্যাচের স্কোরলাইন যখন বলে টার্গেটটা ছিল ৯৯, তখন বুঝতে বাকি থাকে না এই ম্যাচে কতটা আগুন ঝরিয়েছে বোলাররা।
তানজিম সাকিব, শরিফুল, মুস্তাফিজ, সৌম্য-এই চার পেসার তুলে নিয়েছেন কিউইদের ১০ উইকেট। শুনতে সহজ হলেও ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও অতটা সহজ নয়। ঘরের মাটিতে যেখানে দুই পেসার নিয়ে খেলা একটি বিলাসিতা, সেখানে দেশের বাইরে পাওয়া সুযোগ লুফে নিতে শুধু ভাগ্য না, লাগে সামর্থ্য, লাগে টেলেন্ট-যেটা নিয়মিত শো করে যাচ্ছে টাইগার পেস ডিপার্টমেন্ট।

প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট নিয়ে পেসারদের ম্যাচ জেতানো এবারই প্রথম না। চলতি বছরের মার্চে সিলেটে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেটা করে দেখিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন, এবাদতরা। উইকেট স্পোর্টিং হলে স্পিনের রাজত্বে ওরাও যে সম্রাট হতে পারে সেটা এখন গাণিতিকভাবেই প্রমাণিত।
এই তো কিছুদিন আগেও আইপিএলে সাকিব-মুস্তাফিজ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কেউই ডাক পেতেন না। তবে সময় পাল্টেছে ভারতীয়দের চোখ পর্যন্ত টাইগার পেসারদের দিকে। গেল এশিয়া কাপের ফাইনালের পরেই ইরফান পাঠান জানিয়েছিলেন ওদের পেতে কতটা উদগ্রীব হয়ে আছে ফ্রাইঞ্চাইজিগুলো।
পেসার প্রোডিউসের পর তাদের আগলে রাখার ক্রেডিটটাও বিসিবিকে দিতে হবে। দেশের কথা চিন্তা করে দুই দুইবার তাসকিনকে ছাড়েনি বিসিবি, এবার শরিফুলদের নামও উইথড্রো করে নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। এই কেয়ারের ফলটাও তাই মিলছে হাতেনাতে।
তো গামিনির গোবরে এই পদ্মফুল ফোটানোর কৃতিত্বটা তাহলে কার? নিশ্চয়ই এটা শুনে আফসোসের সুরে চোখে ভেসে আসছে একজনের চেহারা, অ্যালান ডোনাল্ড। ২০ মাসের জার্নিতে কি বিপ্লবটাই না ঘটিয়ে গেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে। কোনো কোচ চাকরি ছাড়ার পর এত কষ্ট হয়তো আগে কখনো পায়নি টাইগার ভক্তরা। তবে সময় বদলেছে, পেসারদের কেন্দ্র করে পারফেক্ট প্ল্যান করার এটাই পারফেক্ট সময়।
নিউজিল্যান্ডে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের