দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে তারা। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে পা রাখা স্কটল্যান্ডের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য, ৩৬ বছরের এক অভিশপ্ত খরা কাটানো। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে সুইডেনকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের মুখ দেখেনি স্কটিশরা। আগামীকাল রবিবার ভোরে ‘গ্রুপ সি’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে পুঁচকে হাইতির মুখোমুখি যখন হচ্ছে তারা, তখন কাগজে-কলমে স্কটল্যান্ডই স্পষ্ট ফেভারিট।
এবারের বর্ধিত ফরম্যাটের বিশ্বকাপে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিতে পারলে নকআউট পর্বের রাস্তা অনেকটাই মসৃণ হয়ে যাবে স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যদের জন্য। এমনকি তৃতীয় স্থানে থাকা অন্যতম সেরা দল হিসেবেও পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রীতি ম্যাচে ১০ জনের কুরাসাওকে ৩-১ এবং বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্কটল্যান্ড শিবিরে এখন ফুরফুরে হাওয়া।
তবে কোচ ক্লার্ক খুব ভালো করেই জানেন, আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। কারণ হাইতির পরেই গ্রুপ পর্বে তাদের ওত পেতে আছে মরক্কো এবং পরাশক্তি ব্রাজিলের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ।
অন্যদিকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ হেইতির জন্য এটি বিশ্বকাপে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ। এর আগে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। এবারের টুর্নামেন্টেও অনেকেই তাদের গ্রুপের তলানির দল হিসেবে ধরে নিয়েছেন। তবে ‘দ্য গ্রেনাডিয়ার্স’ খ্যাত হেইতিকে হালকাভাবে নিলে ভুল করবে স্কটিশরা। কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের কঠিন গ্রুপে হন্ডুরাস এবং নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকাকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই তারা মূল পর্বের টিকিট কেটেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে ৪-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানানও দিয়েছে তারা।
হাইতির উইঙ্গার ডেরিক এতিয়েন বেশ হুঙ্কার দিয়েই রেখেছেন। তিনি জানান, তাদের হারানোর কিছু নেই, বরং পাওয়ার আছে অনেক কিছু। বিশ্বমঞ্চে হেইতিকে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এক নতুন পরিচয়ে চেনাতে চান তারা, যেখানে থাকবে না কেবল দারিদ্র্যের গল্প, থাকবে নান্দনিক ফুটবল।
হাইতি শিবিরে কোনো চোটের সমস্যা না থাকলেও স্কটল্যান্ড শিবিরে চিন্তার ভাঁজ। দলের প্রাণভোমরা ও তারকা মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনে অসুস্থতার কারণে খেলবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া নক বা মৃদু চোটের কারণে ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনাকেও মাঠের বাইরে বসতে হতে পারে।
ম্যাচটিতে হাইতির গোলবারের নিচে দেখা যেতে পারে প্লাসিডকে। রক্ষণভাগে আরকুস, আদে, ডেলক্রয়েক্স এবং এক্সপেরিয়েন্স। মাঝমাঠে ডিডসন, জিন জ্যাকস, বেলেগার্ড ও প্রভিডেন্সের সাথে আক্রমণভাগে জুটি বাঁধবেন ইসিডর এবং দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডাকেন্স নাজোন।
স্কটল্যান্ডের হয়ে গোলপোস্ট সামলাবেন গান। রক্ষণে হিকি, হ্যানলি, সুটার এবং অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন। মাঝমাঠে বেন ডোক, লুইস ফার্গুসন, জন ম্যাকগিনের সাথে যদি ম্যাকটমিনে ফিট হন তবে খেলবেন, অন্যথায় বিকল্প ভাববেন কোচ। আর আক্রমণের দায়িত্বে থাকবেন চে অ্যাডামস এবং দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড।
পরিসংখ্যানের ঝাঁঝালো লড়াই: ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কখনোই মুখোমুখি হয়নি হাইতি ও স্কটল্যান্ড। ফলে এটিই হতে যাচ্ছে দুই দলের প্রথম দ্বৈরথ। স্কটল্যান্ড তাদের শেষ ৫টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৪টিতেই জিতেছে। তবে স্কটিশদের রক্ষণভাগ নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে, কারণ তাদের শেষ ৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের প্রতিটিতেই দুই দলই গোলের দেখা পেয়েছে।
স্কটল্যান্ডের মূল ভরসা এখন স্ট্রাইকার লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড। আগের ৬ ম্যাচে গোল না পাওয়া এই ফরোয়ার্ড শেষ ৩ ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ একাই করেছেন ৪ গোল। অন্যদিকে হেইতির ট্রাম্পকার্ড ডাকেন্স নাজোন, যিনি বাছাইপর্বে ৬ গোলসহ দেশের হয়ে মোট ৪৪টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে আছেন।
এছাড়া হাইতির নতুন সেনসেশন উইলসন ইসিডর মার্চে অভিষেকের পর ৪ ম্যাচে ইতিমধ্যে ২ গোল করে ফেলেছেন। তবে হেইতির রক্ষণভাগ বেশ নড়বড়ে; বাছাইপর্বে বার্বাডোসের কাছে ৩-১ এবং কুরাসাওয়ের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার নজির আছে তাদের।
হাইতির নড়বড়ে রক্ষণ বনাম শ্যাঙ্কল্যান্ডের আগুনে ফর্ম, সব মিলিয়ে একটি রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৭:০০টায় শুরু হবে।
সেলেসাওদের হারাতে ছকের বাইরে খেলবে মরক্কো!
ভোরে শুরু ব্রাজিলের হেক্সা মিশন, সামনে মরক্কো
গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যেতে পারেন নেইমার?