মাঠে ক্রোয়েশিয়া ৪-২ গোলে ইংল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হলেও, গ্যালারির পারদ কিন্তু একাই বাড়িয়ে রেখেছিলেন একজন- ইভানা নোল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খোলামেলা পোশাক পরে কড়া আরবীয় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেদনময়ী গ্যালারি সুন্দরীর খেতাব পাওয়া এই ক্রোয়েশিয়ান মডেল ও ডিজে এবারও ধরা দিলেন চেনা ছন্দে।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩৩ বছর বয়সী এই লাস্যময়ী গ্যালারিতে পা রাখতেই ক্যামেরার সব লেন্স যেন জাদুবলে ঘুরে যায় তাঁর দিকে।

এবারের ম্যাচের জন্য ইভানা নোল বেছে নিয়েছিলেন এক বিশেষ কাস্টমাইজড পোশাক। ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা চারকোণা ছক বা ‘চেকার্ড প্যাটার্ন’ দিয়ে তৈরি একটি আঁটসাঁট কর্সেট এবং ডেনিম শর্টস পরে মাঠে হাজির হন তিনি।
প্রিয় দল একের পর এক গোল খেয়ে হারলেও নোলের মুখে কিন্তু চওড়া হাসি লেগেই ছিল। ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়া থেকে শুরু করে দর্শকদের সাথে মাতামাতি, সবখানেই তিনি ছিলেন লাইমলাইটে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রোয়েশিয়ার গোলের উল্লাসের ভিডিও শেয়ার করতেও ভোলেননি এই জনপ্রিয় ক্রোয়াট ইনফ্লুয়েন্সার।

কাতারের কড়া নিয়মের বেড়া ভেঙে বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেওয়া এই মডেলের জনপ্রিয়তা এরপর হুহু করে বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফলোয়ার থাকা ইভানা নোল এখন আমেরিকার বিলাসবহুল শহর মায়ামিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। গ্ল্যামার দুনিয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পোর্টিং ইভেন্টগুলোতে তিনি এখন এক নিয়মিত আকর্ষণ।
সম্প্রতি মায়ামিতে ‘ফর্মুলা ওয়ান’ রেসের প্যাডক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নোলের রূপের জাদুতে মগ্ন হয়ে রেসের অফিশিয়াল ও দর্শকরা যেভাবে হাঁ করে তাকিয়ে ছিলেন, সেই ভিডিও নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়েছিল।

তবে লোকে কী ভাবল, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র পরোয়া করেন না এই ডিজে। ২০২৪ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই ভালো এবং খারাপ দুই দিকই থাকে। কিছু জিনিস আশীর্বাদ, আর কিছু জিনিস শিক্ষা। তবে আমি এমন একজন মানুষ, যে বাকি দুনিয়া আমার সম্পর্কে কী ভাবল তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামায় না।
ফুটবল বিশ্বকাপের হাত ধরে ভাগ্য বদলে যাওয়া ইভানা নোল নিজেই স্বীকার করেছেন, কাতার বিশ্বকাপের সেই উথাল-পাথাল আলোড়ন তাঁর ক্যারিয়ারের বন্ধ দরজাগুলো খুলে দিয়েছে। ফুটবলের গ্ল্যামারকে পুঁজি করে তিনি এখন লাস ভেগাসের বড় বড় ইভেন্ট এবং ফর্মুলা ওয়ানের রেসগুলোতে নিজের আসল ভালোবাসা ‘মিউজিক’ নিয়ে মেতে আছেন।

ডালাসের মাঠে ক্রোয়েশিয়ার হারের বিষাদ ভুলে ম্যাচ শেষেই নোল ছুটে গেছেন শহরের অফিশিয়াল ফ্যান ফেস্টে, যেখানে ডিজে হিসেবে মাঝরাত পর্যন্ত আমেরিকানদের নাচিয়েছেন এই ক্রোয়েশিয়ান সুন্দরী। ক্রোয়েশিয়া প্রথম ম্যাচ হারলেও, ইভানা নোলের গ্ল্যামারের ছটায় ২০২৬ বিশ্বকাপ যে ইতিমধ্যেই জমে ক্ষীর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!
