১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গার্ড মুলারের পর প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে দুই অঙ্কের গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু এমন কীর্তির রাতেও মাঠ ছাড়তে হলো পরাজয়ের গ্লানি আর মুখ গোমড়া করে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশাম্পের ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের শেষ ম্যাচে এমবাপের জোড়া গোলও রক্ষা করতে পারেনি ফ্রান্সকে। বুকায়ো সাকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক আর ১০ গোলের এক অবিশ্বাস্য রোলারকোস্টার থ্রিলারে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান (ব্রোঞ্জ পদক) নিশ্চিত করেছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।
রোববার মায়ামির মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্নছাড়া দেখায় ফ্রান্সকে। ম্যাচের তিন মিনিটেই দেজিরে দুয়ের ভুল পাস থেকে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক ডেক্লান রাইস। এরপর এজরি কনসা হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করার পর বুকায়ো সাকা আরও দুটি গোল করলে প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়নসরা। গ্যালারির একাংশ থেকে কোচ টুখেলের উদ্দেশে আসা দুয়োধ্বনি যেন মুহূর্তেই করতালিতে রূপ নেয়।
তবে বিরতির পর উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলাকে নামিয়ে চালকের আসনে বসেন ফরাসি কোচ দেশাম্প। ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে সম্পূর্ণ খোলস ছেড়ে বের হন কিলিয়ান এমবাপে। তিন মিনিটের মাথায় ওলিসের থ্রু পাস থেকে প্রথম গোলটি শোধ করেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর বারকোলার গোলের ব্যবধান ৪-২ হওয়ার পর, ওলিসের সাথে চমৎকার পাসিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ফ্রান্সকে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফেরান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমেই মূলত গার্ড মুলারকে ছুঁয়ে ফেলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ যখন ৪-৩, তখন নাটকের যেন আরও বাকি ছিলো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে বেঞ্চে বসে থাকা বুকায়ো সাকা পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বড়ো স্বস্তি এনে দেন। শেষদিকে বেঞ্চ থেকে উঠে এসে জুড বেলিংহ্যাম টুর্নামেন্টে নিজের সপ্তম গোলটি করলে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে দেম্বেলে ফ্রান্সের পক্ষে আরও একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।
আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারের ক্ষত ভুলে এই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় জয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে মাঠ ছাড়ে হ্যারি কেইনের দল। আর ডাগআউটে দেশাম্পের শেষ নাচের রাতে রেকর্ড গড়েও ট্রফিহীন বিদায়ের বেদনায় পুড়তে হলো এমবাপেকে।
