পর্নোগ্রাফি দেখতে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৪, ০৬:১৩ পিএম

যে কোন পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে ঢুকতে আমেরিকার অনেক জায়গায় এখন সরকারি আইডিকার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হচ্ছে। যা কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যাস বদলে দিতে পারে। বলা হচ্ছে, ধীরে ধীরে এটি পুরো বিশ্বে চালু হবে একই নিয়ম।

বিশ্বের জনপ্রিয় পর্ন সাইটের মধ্যে একটি ‘পর্নহাব’। আপনি যদি টেক্সাস রাজ্যে বসে এ ওয়েবসাইটে ঢুকতে চান, তাহলে হতাশ হতে পারেন। কারণ সেখানে আপনাকে একটি সরকারি আইডিকার্ড দেখাতে হবে।

চেরি ডিভিল নামের একজন প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র তারকা সম্প্রতি পাবলিক পলিসি নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, পর্নহাব ও একই ধরনের অন্য ওয়েবসাইটগুলো ধীরে ধীরে তাদের সাইটগুলোতে ঢোকার জন্য আপনার বয়স যাচাই করতে পারে। আপলোড করতে হতে পারে আইডিকার্ডও।

আরকানসাস, মিসিসিপি, ইউটা, ভার্জিনিয়ার মতো রাজ্যগুলোতে ২০২৩ সালে বয়স যাচাইকরণ সার্ভিস চালু হবার পর পর্নহাব অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইটে ঢুকতে দিচ্ছে না। উত্তর ক্যারোলিনা ও মন্টানা একই ধরনের আইন পাশ করে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে।

আগামী বছরের দিকে পুরো আমেরিকায় এই আইন চালু হলে প্রতি তিনজনের একজন ব্যবহারকারীকে ব্লক করতে হবে পর্নহাবকে। বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে শিশুদের ভায়োলেন্সমূলক পর্নোগ্রাফি বা অপ্রত্যাশিত যৌন চিন্তা থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে।

২০২২ সাল থেকে আমেরিকাতে বয়স ভেরিফিকেশন বিল চালু হয়েছে। কিন্তু আইডি কার্ড চেক করার বিষয়টি এখনো পর্ন সাইটগুলোতে ততোটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের বেশ কিছু দেশ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার কিছু অংশে দ্রুত যেভাবে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বয়স এবং অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত করতে হয়, সেভাবে পর্ন সাইটগুলোতেও এগুলো যাচাই করা হবে।

যারা আইডি যাচাইয়ের বিষয়টি সমর্থন করছেন তারা বলছেন, আপনি সিগারেটের প্যাকেট কিনতে যদি আপনার আইডি দেখাতে পারেন, তাহলে পর্নোগ্রাফির জন্য কেনো নয়? আমেরিকান প্রিন্সিপলস প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট টেরি শিলিং বলেছেন, আমরা মনে করি না যে শিশুরা যেভাবে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটগুলোতে অ্যাক্সেস করতে সক্ষম, তা হওয়া উচিত।

অন্যদিকে যারা আইডিকার্ড যাচাইয়ের বিপক্ষে তারা বলছেন, এই ধরনের যাইয়ের ফলে ব্যবহারকারীর স্বাধীনতায় হস্তান্তর করা হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক হোক বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক, সবার উন্মুক্তভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকার থাকা উচিত।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) সিনিয়র স্টাফ টেকনোলজিস্ট ড্যানিয়েল কান গিলমোর বলেন, যদি সৎভাবে বলি, মানুষ এখন ইন্টারনেটে যা বেশি দেখে তার একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আরেকটি পর্নোগ্রাফি।

বিশ্বব্যাপী চলা রাজনৈতিক বিতর্কে প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়। পর্নহাবের মূল কোম্পানি আয়লো এবং এসিএলইউ যুক্তরাজ্যের সুপ্রিমকোর্টে বয়স যাচাইয়ের বিষয়টি পুনঃবিবেচনার আবেদন করেছে। বলা যাচ্ছে না, আদালত কি রায় দেবে।

ইতিমধ্যে, আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পটভূমিতে পর্নোগ্রাফি অ্যাক্সেস একটি মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচিত জেডি ভান্স অতীতে বলেছিলেন, ‘পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করা উচিত’। সামনে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কিছু ব্যবহারকারী মনে করছেন যে, যদি ব্যবহারকারী তার সরকারি আইডি কার্ডগুলো পর্ন সাইটগুলোতে ব্যবহার করেন- তা সরকার বা কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর জন্য সুবিধা আর ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ব্যবহাকারীর সম্পূর্ণ তথ্য মনিটরিং করা হতে পারে। যা ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য বড় সমস্যা।

ডিজিটাল অধিকার সমর্থনকারী গ্রুপ ফাইট ফর দ্য ফিউচারের পরিচালক ইভান গ্রিয়ারের মতে, আইডি পরিদর্শনের বিষয়টি শুধুমাত্র পর্নোগ্রাফি দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ ভাবাটা ভুল হবে। তার মতে, এর সাথে জড়িয়ে যেতে পারে শিল্প, সাহিত্য, যৌন শিক্ষা  এলজিবিটিকিউয়ের মতো বিষয়গুলো।

পর্নহাবের মূল প্রতিষ্ঠান আইলোর ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স কেকেসি বলছেন, তারাও চান না অপ্রাপ্ত বয়স্ক কেউ আসুক এবং এ ধরনের ভিডিও দেখুক। বয়স যাচাই করার পক্ষে পর্নহাব।

তিনি বলেন, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কসহ (ভিপিএন) আরও বেশ কিছু কারণে চাইলেই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে- ভিপিএন ব্যবহার করে সহজেই পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে ঢোকা যায়। এছাড়া, অনেক বেশি ওয়েবসাইট থাকায় কোনো কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীরা পেয়েই যান, যারা কোনো নিয়মনীতি মানে না।

অন্তত ছয়জন ইন্টারনেট এবং শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞের মতে, বয়স যাচাই আইনের বর্তমান অবস্থা, শিশুরা কীভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তার ওপর অনিচ্ছাকৃত প্রভাব ফেলতে পারে। পর্নহাবের ওয়েবসাইটে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো অতীতে আলোচনায় এসেছে।

যেমন, ২০২০ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে পর্নহাবের ওয়েবসাইটে শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান, ধর্ষণ ও অন্যান্য ক্ষতিকারক এবং বেআইনি বিষয়বস্তু পাওয়ার বিষয় তুলে ধরা হয়। তখন আয়লো দাবি করে, মূলত গল্পগুলোতে ভুল শিরোনাম দেয়ায় এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। পরে এনিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
পর্নহাব এবং আয়লোর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রতিটি ভিডিও একটি একটি করে যাচাই করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। মানুষ দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বয়স, পরিচয় এবং পরিবেশসহ অন্যান্য বিষয়গুলো বার বার খতিয়ে দেখা হয়।

১৯৬৯ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডেনমার্কে পর্নোগ্রাফিকে আইনত বৈধ ঘোষণা করে। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মিলার বনাম ক্যালিফোর্নিয়া মামলার রায় ঘোষণার সময় অশ্লীলতাকে একটি তিন পর্বের পরীক্ষার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করে।

১৯৯০-এর দশক থেকে ইন্টারনেটের কারণে পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক উন্নতি ঘটে। বলা হচ্ছে, প্রতি বছর ইন্টারনেট থেকে যে পরিমাণ কনটেন্ট ডাউনলোড করা হয়, তার ৩৫ শতাংশই পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত।

জার্মানভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্ট্যাটিস্টা বলছে, ২০২৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের তালিকায় পর্নহাবের অবস্থান ছিলো চতুর্থ। বছরজুড়ে এই সাইটের ব্যবহারকারী ছিলো ১২.৮ বিলিয়ন। তাছাড়া এক্সভিডিও নামের আরেকটি পর্নোগ্রাফি সাইটের অবস্থান ছিলো পাঁচে। এর দর্শক ছিলো ৮.৯৬ বিলিয়ন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটের আয়ের হিসেব বলছে, ২০২২ সালে এই সেক্টরের বাজার ছিলো ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত পাঁচ বছরে এই বাজার সেখানে গড়ে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়ছে।

২০১৯ সালে গোটা ব্রিটেনে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপ থেকে জানা যায়, ৭৭ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ শতাংশ নারী জরিপে অংশ নেয়ার আগের মাসেও পর্ন দেখেছেন। জরিপে অংশ নেয়া তরুণদের কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। বেশিরভাগ তরুণই মনে করেন বাস্তব জীবনের সঙ্গে পর্নোছবিতে দেখানো যৌনতার কোনো মিল নেই। তথ্য সূত্র: বিবিসি।

এআরএস
দু’দিন ধরে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারের জটিলতায় মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট যাচাই কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।সমস্যা সমাধান চেয়ে এরইমধ্যে...
স্পেনের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তীব্র উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের। আর এই স্নায়ুচাপ সামলাতে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এখন একমাত্র ভরসা, নানা অদ্ভুত আর...
বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা যে দলের হাতেই উঠুক না কেন, তারা শুধু ফুটবলের ইতিহাসেই অমরত্ব পাবে না, একদম টাকার পাহাড়ে ভেসে যাবে! এবারের বিশ্বকাপে ফিফা তাদের আর্থিক পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে রেকর্ড ১.২৫...
এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি যেন পুরোপুরি, আমেরিকান ফুটবলের ফাইনাল হিসাবে পরিচিত সুপার বোলের আদলে রূপ নিতে যাচ্ছে, যেখানে প্রথমার্ধের বিরতিতে পারফর্ম করবেন জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, শাকিরা...
নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সি অঞ্চলে আচমকা ধেয়ে আসা তীব্র বজ্রঝড় আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভেস্তে গেছে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেন ও আর্জেন্টিনার শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত অনুশীলন সেশন! রবিবারের সেই...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর