রাজধানী ঢাকায় বায়ু দূষণের কারণে নগরবাসীর গড় আয়ু কমে যাচ্ছে সাত বছর। দেশের অন্য সব স্থানে এই গড় আয়ু কমছে পাঁচ বছর করে।
একই কারণে দেশে নানা রোগে মারা যাচ্ছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। বাড়ছে ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগের মত জটিল অসুখ। জন্ম নেয়া শিশুদেরও ঠিকমত বিকাশ হচ্ছে না।
প্রতিদিন সড়কের বিষাক্ত ধুলা আর ধোঁয়া মিশছে বাতাসে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সেই বাতাস ঢুকছে মানবদেহে। এতে নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে রাজধানীসহ সারাদেশের বাতাস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, রাজধানীর প্রতিটি এলাকা বায়ু দূষণ সর্বচ্চো পর্যায়ে। অথচ বিশুদ্ধ বাতাসে সূক্ষ্মকণা প্রতি কিউবিক ঘন মিটারে থাকার কথা দশের নীচে।
সেখানে এই সূক্ষ্ম বস্তু কণা মিলছে ৫০০ পর্যন্ত। যাকে রীতিমতো ভয়াবহ পর্যায় বলে উল্লেখ করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, বায়ু দূষণের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ, শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা বাড়ছে। বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে গর্ভকালীন শিশুর বিকাশ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, পিএম ১ বা অতিসূক্ষ্ম কণা সরাসরি ব্রেনে ঢুকে ছোট ছোট সেলগুলোকে অকেজো করে দিচ্ছে। এত মানুষের চিন্তা শক্তি, মেজাজ খিটখিটে হচ্ছে।
ভৌগলিক অবস্থার কারণে পাশের দেশের দূষণও বাংলাদেশে আসছে। এতে শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকিই বাড়ছে না। ব্লাক কার্বন, সিএফসি ও ওজনের মত উপাদান বাতাসকেও উত্তপ্ত করছে।
এতে শুধু মানবদেহই মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ছে না, সেই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবদুস সালাম।
আরেক বায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, দূষণ রোধে তিন বেলা রাজধানী জুড়ে পানি ছিটানোর নির্দেশ দিয়েছিলও হাইকোর্ট। সেটিও ঠিকঠাক মত পালন হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: টিকা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার পরিবহন শ্রমিকরা
ডিসেম্বর-মার্চ এই চার মাস বাতাসে সবচেয়ে বেশি দূষণ থাকে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও অতিরিক্ত গাড়ির চাপ না কমাতে পারলে দূষণ থেকে বের হওয়া সম্ভব নয় বলে জানালেন গবেষকরা।
উল্লেখ্য, বায়ু দূষণের দিক থেকে বৃহস্পতিবার থেকে টানা শীর্ষে ঢাকা। রোববার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরবেলা ১৯০ একিউআই পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা।
একাত্তর/আরএ
