ইউক্রেনের মারিউপোল ও ভলনোভাখা শহর দুটি থেকে শনিবার (৫ মার্চ) বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় রুশ বাহিনী। উভয় পক্ষের মতৈক্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি যুদ্ধবিরতি।
যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এর জন্য ইউক্রেন কর্তৃপক্ষকে দায়ি করে রাশিয়া। ইউক্রেন বিদেশি ও বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ পুতিন প্রশাসনের।
ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ, শহর দুটোতে হামলা অব্যাহত আছে। আর এ কারণে মারিউপোল শহর থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ স্থগিত হয়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে এই শহরটি দখলে রেখেছে রুশ সেনারা।
রোববার (৬ মার্চ) ১১তম দিনে গড়িয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত। রুশ সেনা বহরের সামনে অনেকটাই কোণঠাসা ইউক্রেন সেনারা।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে যে, রুশ বাহিনী রাজধানী কিয়েভের দক্ষিণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধ দখল করতে চায়।
ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের বরাতে সংবাদামাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদন জানায়, রুশ বাহিনী কিয়েভ থেকে প্রায় ১৫০কিলোমিটার (৯৩ মাইল) দক্ষিণে ডিনিপ্রো নদীর উপর অবস্থিত কানিভ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধ দখল করার পরিকল্পনা করেছে।
আরও পড়ুন: 'তিস্তার পানি বন্টন মীমাংসা শিগগিরই’
এখন পর্যন্ত, রুশ বাহিনী জাপোরিঝিয়াতে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় আক্রমণ চালিয়েছে ও দখল করেছে।
এদিকে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনে দুই হাজারের বেশি বেসামরিক ইউক্রেনীয় নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২ মার্চ) এমন দাবির কথা জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি দেশটি।
অন্যদিকে শুক্রবার ইউক্রেন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এখন পর্যন্ত নয় হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে। এর উক্রেনের দুই হাজার ৮৭০ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা। এর মস্কো বলছে, তাদের প্রায় ৫০০ জন সেনা নিহত হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
