সশস্ত্র যুদ্ধের মতো ইউক্রেন রাশিয়ার মধ্যে ভার্চুয়াল জগতেও চলছে যুদ্ধ। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া দেশটির সাইবার জগতে অনবরত হামলা চালাচ্ছে।
প্রতিরোধ হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধে নামতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাইবার যোদ্ধা বা স্বেচ্ছাসেবীদের আহ্বান জানাচ্ছে ইউক্রেন।
শুধু অস্ত্র নয়, নেট দুনিয়াতেও তুমুল লড়াই চলছে ইউক্রেন-রাশিয়ার। চাইলে যে কেউ এই সাইবার যুদ্ধে অংশ নিতে পারবেন।
শুনতে অবাক লাগলেও ইতিহাসে এবারই প্রথম এমনটা জানিয়েছে, চেক পয়েন্ট সফটওয়্যার টেকনোলজিসের গবেষণা শাখাও।
ইউক্রেন সরকারের অভিযোগ, রাশিয়া তাদের দেশের সরকারি ও ব্যাংকিং ওয়েবসাইটগুলোতে সাইবার হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা অভিযোগ করেছে মস্কোও।
অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙ্গতে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে মেল ওয়্যার, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ভুল তথ্য। চেষ্টা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংকে ঢুকে টাকা হাতিয়ে নেয়ারও।
তবে পাল্টা পদক্ষেপও নিচ্ছে ইউক্রেন। রাশিয়ার হামলার পরপরই আইটি আর্মি অব ইউক্রেন নামে একটি বাহিনী তৈরি করেছে দেশটির ডিজিটাল মন্ত্রণালয়।
ম্যাসেঞ্জার প্লাটফর্ম টেলিগ্রামে রয়েছে তাদের চ্যানেল যার সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ৯০ হাজারের বেশি। প্রতিদিনই বাড়ছে এই চ্যানেলে গ্রাহক সংখ্যা।
এই চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দিক থেকে যারা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়তে চায় তাদের আহবান জানানো হচ্ছে। রাশিয়ার ডিজিটাল অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলাই এই চ্যানেলের লক্ষ্য।
আইটি আর্মিতে আছেন অ্যানোনিমাস নামের হ্যাকার কর্মীরা। গত দুই সপ্তাহে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেজ থেকে তথ্য ফাঁসে সফল হয়েছেন বলে দাবি তাদের।
আরও পড়ুন: পুতিনকে মল্লযুদ্ধের চ্যালেঞ্জ দিলেন ইলন মাস্ক
একইসাথে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিস হ্যাক করে রাশিয়ার হামলা সংক্রান্ত খবরও প্রকাশ করেছে তারা।
সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি সাইবারপ্রুফের প্রেসিডেন্ট ইউভাল ওলম্যান বলছে, প্রায় চার লাখ বহুজাতিক হ্যাকার ইউক্রেনকে সহযোগিতা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে, ইউক্রেনের ওপর সাইবার হামলার বিষয়টি বরাবরের মতো অস্বীকার করছে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্রের রুশ দূতাবাসও বলছে, সাইবারস্পেসে কোনো অপারেশন চালায়নি রাশিয়া।
একাত্তর/আরএ
