পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েই শাহবাজ শরিফ তাঁর বড়
ভাই এবং দেশটির তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে দেশে
ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
নওয়াজ শরিফকে পলাতক দেখিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরাতে চেষ্টা করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু তার চেষ্টায় সাড়া দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।
অবশেষে সেই নওয়াজের এবার সসম্মানে দেশে ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছেন তার ছোট ভাই। যিনি দারুণ নাটকীয় ঘটনার পর ইমরানকে হটিয়ে ইসলামাবাদের গদিতে বসেন।
নওয়াজ শরিফকে দেশের ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পাসপোর্ট নবায়ক করে দেয়ার।
বুধবার পাকিস্তান বিদেশ দফতরের তরফে লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের ‘কুটনৈতিক পাসপোর্ট’ পুনর্নবীকরণের সরকারি নির্দেশনামা জারি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ মঙ্গলবারই এই নির্দেশ নেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে। পরে বুধবার লন্ডনের পাকিস্তান হাইকমিশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়।
পানামা নথি ফাঁসের পর ২০১৭ সালে দুর্নীতি এবং আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তির মামলায় পাকিস্তানের দুর্নীতি দমন আদালত নওয়াজকে ১০ বছরের জেলের সাজা দিয়েছিল।
জেলে যেতে হয় নওয়াজকে। সুপ্রিমকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য চার সপ্তাহের জন্য নওয়াজ লন্ডন যাওয়ার অনুমতি দেয় পাকিস্তানের আদালত।
আরও পড়ুন: মার্কিন প্রতিবেদনে তথ্যের গড়মিল আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কিন্তু লন্ডনে গিয়ে নওয়াজ আর ফেরেননি। ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় নওয়াজকে পলাতক ঘোষণা করে তাঁকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানায় ব্রিটেনের কাছে।
কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। যায়। এরপর ইমরান খানের সরকার নওয়াজের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে। সেই পাসপোর্টই আবার ফিরে পাচ্ছেন নওয়াজ শরিফ।
শাহবাজ সরকারের নির্দেশে কুটনৈতিক পাসপোর্ট ফিরে পাবার ফলে নওয়াজ এবার দেশে ফিরে সরকারের সহায়তায় বয়স ও স্বাস্থ্যের কারণে সাজা মওকুফের আবেদন জানাতে পারেন।
একাত্তর/আরবিএস
