ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা আজভস্টাল স্টিলওয়ার্কস প্ল্যান্টে এখনও লুকিয়ে রয়েছে হাজারেও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা ও বেসামরিক নাগরিক। রুশ বিমানগুলো সেখানে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন আজভ রেজিমেন্টের ডেপুটি কমান্ডার স্ব্যাটোস্লাভ পালামার।
রোববার আজভের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় স্ব্যাটোস্লাভ পালামার বলেন, রুশ নৌবাহিনীর আর্টিলারি এবং কামান ব্যবহার করা হচ্ছে। মধ্য মারিউপোলের বিশাল শিল্প এলাকায় ট্যাঙ্কগুলো লাগাতার হামলা চালাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, খ্রিস্টানদের অন্যতম প্রধান উত্সব অর্থোডক্স ইস্টারের জন্যও হামলা থামাবে না রাশিয়া।
এ সময় পালামার সেই সমস্ত লোকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন যারা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আটকে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের অবরুদ্ধ দক্ষিণ শহর থেকে প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়ার জন্য আলোচনা করছেন।
তিনি যোগ করে, যখন অনেক ইউক্রেনীয় নাগরিক ইস্টার উদযাপন করছিল, তখন মারিউপোলে "শত্রুরা নিষ্পাপ শিশুদের মাথায় বোমা ফেলছে"।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সপ্তাহের শুরুতে ওই ইস্পাত কারখানার ওপর হামলা বন্ধ করার আদেশ দেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: ইউরোপের অস্ত্রেই ইউক্রেনকে ঘায়েল করছে রাশিয়া
উল্লেখ্য, আজভ ব্যাটালিয়ন ইউক্রেনের একটি সশস্ত্র আধা-সামরিক গোষ্ঠী। উগ্র-জাতীয়তাবাদী এ গোষ্ঠীর সকল সদস্যই স্বেচ্ছাসেবী। তারা নব্য-নাৎসিবাদ ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বয়ং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০১৪ সালের মে মাসে স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী হিসেবে আজভ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্যোক্তা ছিল একদল ইউক্রেনীয় উগ্র-জাতীয়তাবাদী এবং নব্য-নাৎসি সোশ্যাল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (এসএনএ) গোষ্ঠী। পরে একে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে 'ইনটারভেনশন ইউনিট' হিসেবে যুক্ত করা হয়। আজভ ব্যাটালিয়নের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৯০০। তারা সমকামী ও অন্য দেশের মানুষকে ঘৃণা করে। তাছাড়াও তারা নিজেদের নাৎসি হিসেবে পরিচয় দেয়।
একাত্তর/আরবিএস
