ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ দুই রাজ্যে বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৫ জন।
প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ওপর। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের অন্তত ২৮টি জেলার ১৯ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আসামের কমপক্ষে ২৮ জেলার চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। এসব জেলার প্রায় তিন হাজার গ্রামের ১৯ লাখ মানুষ পানিবন্দি আছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নতুন গঠন করা বাজালি জেলা।
ব্রহ্মপুত্র এবং গৌরঙ্গা নদীর পানি অনেক স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বন্যা কবলিত জেলাগুলোর প্রশাসন সতর্কতা জারি করে জরুরি প্রয়োজন কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামের রাজধানী গোয়াহাটির বেশিরভাগ স্থান পানি জমে অচল হয়ে পড়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
গোয়াহাটির বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের কথা জানা গেছে। এতে অজন্তানগর এবং নুনমাটি এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
আসামের নিন্মাঞ্চল রঞ্জিয়া বিভাগের নলবাড়ি এবং গোরাখপুরের মধ্যকার ট্রেন লাইনে পানি জমে যাওয়ায় এসব এলাকায় ট্রেন যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় ভারতের ৬নং জাতীয় মহাসড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে ও বন্যায় তলিয়ে গেছে। এ কারণে মহাসড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই মহাসড়কটি ত্রিপুরা, দক্ষিণ আসাম, মিজোরাম ও মেঘালয়ের কিছু অংশের যোগাযোগের একমাত্র উপায়। ফলে সড়কটি বন্ধ রাখায় বিপদে পড়েছে লাখো মানুষ।
এদিকে বন্যায় কবলিত হয়েছে আরেক রাজ্য মেঘালয়। রাজ্যের চারটি অঞ্চলের দুর্গত মানুষের দেখভালের জন্য চারটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন করে মন্ত্রী।
শুক্রবার মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ১৯৯৫ সালের পর থেকে জুন মাসে সর্বোচ্চ এবং ১২২ বছরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
একাত্তর/এআর
