সাভারের আশুলিয়া ছাত্রের পিটুনিতে কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যায় অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম জিতুর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। বুধবার (২৯ জুন) ভোরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম উজ্জ্বল হাজী। তিনি পলাতক ছিলেন।
বুধবার (২৯ জুন) সকালে একাত্তরকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক।
তিনি বলেন, নিহতের বড়ো ভাই অসীম কুমার সরকার অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন। ওই মামলায় প্রধান আসামির বাবাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এইচএম কামরুল জানান, গ্রেপ্তারের পর সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি জিতুকেও গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।

এর আগে শনিবার (২৫ জুন) কলেজ ক্যাম্পাসে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় আশুলিয়ার চিত্রাশাইলে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রভাষক উৎপল কুমার সরকারকে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটায়। পরে গত সোমবার (২৭ জুন) সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ওই কলেজ শিক্ষক মারা যান।
আরও পড়ুন: চাকরি গেলো দক্ষিণ সিটির উপ কর কর্মকর্তাসহ ৩৪ জনের
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সিসি ক্যামেরা অকার্যকর রাখতে জিতু নিজেই বিদ্যুতের মূল সুইচ বন্ধ রাখে। স্কুলটির এক পরিচালকের আত্মীয় হয় জিতু। সেই ক্ষমতাই জিতুর ওপর কেউ কথা বলতে পারতো না। জিতু নানা অপকর্ম করে বেড়ায়।
স্কুলের এক শিক্ষক জানান, সহকর্মী উৎপল আঘাতের পর পড়ে যাচ্ছিলেন। তাই তাকে ধরতেই জিতুকে ধরেও তখন ছেড়ে দিতে হয়েছে। পরে আরও শিক্ষকেরা উৎপলকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে জিতু সেখান থেকে সটকে পড়ে।
একাত্তর/এসি
