ভুয়া ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) ব্যবহার করে সুতা ও মেশিনারি পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করেছে র্যাব। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকা থেকে মদের চালানটি জব্দ করার পর সংস্থাটির দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি তাদের আটক করা সবচেয়ে বড়ো অবৈধ মদের চালান।
শনিবার (২৩ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর টিপর্দিতে সালাউদ্দিন পার্কিং স্ট্যান্ডের সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩৬ হাজার ৮১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ খবর জানান র্যাবের মুখপাত্র খন্দরকার মঈন।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আটক করা এটি তাদের সবচেয়ে অবৈধ মদের বড় চালান। উদ্ধার হওয়া মদের দাম ভ্যাটসহ প্রায় ৩৭ কোটি টাকা।

মঈন জানান, তৈরি পোশাক শিল্পের পণ্যের মিথ্যে ঘোষণা দিয়ে এই মদ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন দুবাই থেকে চট্রগ্রাম বন্দর হয়ে আসা এই চালানের অন্যতম হোতা আব্দুল আহাদ। তিনি আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য এবং শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের ছেলে।
মঈন বলেন, ঢাকা-চট্রগ্রাম হাইওয়ে ধরে আসা এই কাভার্ড ভ্যানের গন্তব্য ছিলো মুন্সিগঞ্জের শ্রীপুর। শুল্ক বিভাগের নথি অনুযায়ি ভ্যানে থাকার কথা তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহারযোগ্য পণ্য। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালায় র্যাব। পাওয়া যায় পুরো গাড়ি ভরা বিদেশি মদ।

আরও পড়ুন: কারাগারে তদন্তে যেতে দুদকে শর্ত দিলো কারা কর্তৃপক্ষ
র্যাব জানায়, দুবাই থেকে আসা এই মদ চট্টগ্রাম কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজোসে তৈরি পোশাক কারখানার মালামাল হিসেবে ছাড়পত্র পেয়েছে।
আবদুল আহাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির উল্লেখ খন্দকার আল মঈন জানান, এই পিতা-পুত্র সিন্ডিকেট মূলত বিদেশ থেকে ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি করে। এ জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে তারা দুবাই থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে এই বিশাল মদের চালান আনে এবং এগুলো আবার তাদের সিন্ডিকেটের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বন্দর থেকে খালাস করিয়ে নেয়।
একাত্তর/এসি
