ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয় স্বীকার না করলেও, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো।
হেরে যাওয়ার পর মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেন বলসোনারো।
এসময় তিনি বলেন, ভোট নিয়ে 'ক্ষোভ ও অবিচারের অনুভূতি' থেকে বিক্ষোভ করেছেন তার সমর্থকরা।
নির্বাচনের ফলকে বলসোনারো চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিলো। তবে শেষ মুহূর্তে নিজের চিব অব স্টাফ সিরো নোগেইরাকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।
রোববারের (৩০ অক্টোবর) নির্বাচনের প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পর এ নিয়ে মুখ খুললেন বলসোনারো। এ বিলম্বের কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছিলো, অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় ফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবেন তিনি।
তার এ নীরবতার মধ্যেই রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তার সমর্থকরা। সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলাকে ক্ষমতায় আসা থেকে ঠেকাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের আহবান জানান কেউ কেউ।
জানা গেছে, মহাসড়ক অবরোধের ফলে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ এবং প্রধান প্রধান বন্দরে শস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়।
নিজের সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলসোনারো ঠাট্টাচ্ছলে বলেন, তাকে সাংবাদিকরা মিস করবেন। তাকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তিনি। আগামী ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
সম্পত্তির ক্ষতি বা 'আসা-যাওয়ার অধিকার ব্যাহত' না করতে সমর্থকদের প্রতি আহবান জানান বলসোনারো। তবে তাদেরকে বাড়ি ফিরতেও বলেননি তিনি।
ব্রাজিলিয়ান রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক আন্দ্রে সিজার বলেন, 'বলসোনারো এই আগুন নেভাননি। মহাসড়কে বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা না করে তিনি তার কট্টর সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন'।
আরও পড়ুন: শর্তসাপেক্ষে শস্য রপ্তানি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পারে রাশিয়া
এদিকে, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে লুলার দপ্তরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলসোনারোর চিফ অব স্টাফ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যামিলটন মুরাও। বলসোনারোর মিত্ররাও নির্বাচনের ফল মেনে নিতে তার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি হওয়ার মাধ্যমে বলসোনারো নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট।
একাত্তর/এসজে
