পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম বয়া থেকে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে গভীরে বঙ্গোপসাগরে এফবি ভাই ভাই ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে খোকন হাওলাদার (৪০) নামের একজন জেলে জখম হয়েছেন।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দুইটায় বঙ্গোপসাগরের সোনারচর সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ট্রলারের মালিক বরগুনার নলী গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন।
এফবি ভাই ভাই ট্রলারের মালিক মনির হোসেন জানান, গত শুক্রবার বিকেল চারটায় ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে ১৮ জেলেসহ বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে রাত দুইটার দিকে সোনার চর সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে ডাকাতরা গুলি ছুড়ে ট্রলারে উঠে যায়। এসময় আতঙ্কে মাঝিসহ ৯ জেলে তাদের জীবন রক্ষায় সাগরে ঝাঁপ দেয়। গুলিবিদ্ধ হন এক জেলে। আরেকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
বাকি জেলেদের ট্রলারের ডোপে (মাছ রাখার স্থান) আটকে সবকিছু নিয়ে যায় ডাকাত দল।
ঘটনার সময় অন্য একটি পাথরঘাটার ট্রলার আসলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পরে ওই ট্রলারের সহযোগিতায় ট্রলার, গুলিবিদ্ধ, আহতসহ ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ জেলেদের বাড়ি বরগুনার তালতলী ও নলী এলাকায়। আহত জেলেদেরকে পাথরঘাটা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গুরুতর দুইজনকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁজ ৯ জেলের মধ্যে কাইয়ুম মাঝি, শফিকুল, কালাম ও ফরিদের নাম জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে, সবার বাড়ি বরগুনার নলী এলাকায়।
আরও পড়ুন: জন্মনিবন্ধন সনদ জালিয়াতি চক্রের পাঁচজন গ্রেপ্তার
কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়তের মালিক সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন বঙ্গোপসাগর জলদস্যু মুক্ত ছিলো। ফের ডাকাতরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এসব জলদস্যুদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এদিকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে র্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনী।
র্যাব-৮ এর পটুয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার এএসপি তুহিন রেজা জানান, সকাল দশটায় পাথরঘাটা থেকে নিখোঁজদের স্বজনদের সাথে নিয়ে র্যাব-কোস্টগার্ডের সদস্যরা অভিযান শুরু করেছে। এছাড়াও নৌ বাহিনীর একটি টিমও কাজ করছে।
একাত্তর/আরএ
