রোজার মাসে মূল্য তালিকার ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসিয়েও পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কাজে আসছে না। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ডিসপ্লে বোর্ড বসানো সাত বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেগুলোর কোন কোনটিতে বোর্ড বন্ধ। আবার কোথাও বোর্ডের সামনে গাড়ি পার্ক করা। মূল্য তালিকার সাথেও বাজারে বেচাকেনা হওয়া পণ্যের দামে বিস্তর ফারাক।
তিন আগে রোজার মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনসাধারণের অবগতির জন্য ১১টি মার্কেটে মূল্য তালিকার ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। প্রতিদিন বিকাল তিনটায় পণ্যের দাম জানিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ডিএনসিসির মনিটরিং টিমের কাছে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হবে। সেই মূল্য পাওয়ার পর তা ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে সবার কাছে তুলে ধরা হবে।
ডিসপ্লে বোর্ডে থাকা দামেই সংশ্লিষ্ট বাজারকে পণ্য বিক্রি করতে হবে। আর কেউ বেশি দাম নিলে ক্রেতারা ডিএনসিসির হটলাইন নম্বর ১৬১০৬ এ অভিযোগ করতে বলা হয়েছিলো। স্বয়ং মেয়র হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বেশি দাম নিলে দোকান বন্ধ করে দেবেন তিনি।
তিন পরে এসব ডিসপ্লে বোর্ড কতটা কাজে লাগলো তা দেখতে মাঠে নামে একাত্তর টেলিভিশন। শুরুতেই যাওয়া হয় মহাখালীর কাঁচাবাজারে। কারণ, এই বাজারেই ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড উদ্বোধন করেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম।
সোমবার সকাল সোয়া ন’টায় মূল্য তালিকার ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডটি বন্ধ পাওয়া যায়। মাত্র তিন দিন আগেই উত্তরের মেয়র এটি উদ্বোধন করেছিলেন। ডিসপ্লে বোর্ড বন্ধের কারণ জানতে ডিএনসিসির বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, বোর্ডটি চালুর দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের টেকনিক্যাল টিমের। পরে, সকাল সাড়ে দশটায় সেটি চালু হয়।
টেলিফোনে বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রধান একাত্তরের এই প্রতিবেদককে জানান, গুলশান-১ নম্বর কাঁচাবাজারের ডিসপ্লে বোর্ডের অবস্থা আরও খারাপ। বোর্ডের সামনে সারি সারি মোটরসাইকেল পার্কিং করা। দাঁড়িয়ে পণ্যমূল্য যাচাইয়ের কোন সুযোগ নেই।
অবশ্য ডিসপ্লে বোর্ডের ব্যাপারে ক্রেতারও আগ্রহ কম। বেশিরভাগ ক্রেতারই অভিযোগ, বোর্ডের মূল্য তালিকা লোক দেখানো। বাজারের সাথে কোন মিল নেই। বাজার যাচাই করে দেখা যায়, বোর্ডের মূল্য তালিকার চেয়ে বেশি দামে পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ে দুই সংস্থার দুই চিত্র!
বিক্রেতারা দাবি করছেন, ডিসপ্লে বোর্ডে মনগড়া দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ড থাকা দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব না। কারণ, বেশি দামে তাদেরকে কিনতে হচ্ছে। সামান্য লাভ রেখে পণ্য বিক্রি করতে না পারলে না খেয়ে মরতে হবে তাদেরকে।
বিক্রেতাদের এমন দাবির সঙ্গে ক্রেতারা এক নয়। তাদের কথা, বিক্রেতাদের এমন দাবি তারা বছরের পর শুনে আসছেন। তাই এই অবস্থায় শুধু ডিসপ্লে বোর্ড বসিয়ে নয়, বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
একাত্তর/এসজে
