এক ইউক্রেনীয় সেনাকে শিরশ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ান সৈন্যদের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ অভিযোগ ওঠে।
বুধবার (১২ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ভিডিওতে দেখা গেছে ইউনিফর্ম পরিহিত এক ব্যক্তি হলুদ বাহুবন্ধনি পরা এক ব্যক্তির শিরশ্ছেদ করছেন। সাধারণত ইউক্রেনীয় সেনারা এই বাহুবন্ধনি ব্যবহার করেন। তবে এ ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর রাশিয়াকে ইসলামিক স্টেটের সাথে তুলনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে এ ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।
ক্রেমলিন ভিডিওটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করে বলেছে, এর সত্যতা যাচাই করা দরকার। মস্কো অতীতে অস্বীকার করেছে যে তার সেনারা সংঘাতের সময় নৃশংসতা চালায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভিডিওবার্তায় বলেন, একটি বিষয় বিশ্বের কেউ উপেক্ষা করতে পারে না: এই জানোয়াররা কত সহজে হত্যা করে।
‘সবকিছুর জন্য আইনি দায় থাকবে। সন্ত্রাসের পরাজয় জরুরি’, আরও বলেন তিনি।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা এক টুইটবার্তায় বলেন, রুশ সেনারা ইউক্রেনের একজন যুদ্ধবন্দীর শিরশ্ছেদ করার একটি ভয়ঙ্কর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অযৌক্তিক যে রাশিয়া, যেটি আইএসআইএসের চেয়েও খারাপ, ইউএনএসসিতে সভাপতিত্ব করছে।
রাশিয়া এই মাসে পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
কুলেবা বলেন, রাশিয়ান সন্ত্রাসীদের অবশ্যই ইউক্রেন এবং জাতিসংঘ থেকে বের করে দিতে হবে এবং তাদের অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
ইরাক ও সিরিয়ার ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেই দেশগুলোর একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করার সময় বন্দীদের শিরশ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করার জন্য কুখ্যাত ছিল।
মস্কোতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথমত, আমরা নকলের জগতে বাস করি বিধায় আমাদের এই ফুটেজটির সত্যতা যাচাই করতে হবে।
তাহলে এটি সত্য কিনা, এটি ঘটেছে কিনা, এবং যদি এটি হয়েছিল, কোথায় এবং কার দ্বারা তা যাচাই করার একটি অজুহাত হতে পারে’।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি নিয়ে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: বার্ড ফ্লুর বিরল ধরনে প্রথম মৃত্যু চীনে
টেলিগ্রামে এক পোস্টে তারা বলে, ‘গতকাল, ইন্টারনেটে একটি ভিডিও দেখা গেছে রাশিয়ান দখলদাররা কীভাবে তাদের পাশবিক প্রকৃতি দেখাচ্ছে - এক ইউক্রেনীয় বন্দিকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে এবং তার মাথা কেটে দিয়ে’।
জেনেভায় ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন বলেছে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ‘ভয়ঙ্কর’ ভিডিওগুলো দেখে হতবাক হয়ে গেছে।
একাত্তর/এসজে
