ভারতের উত্তর প্রদেশে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাবেক সংসদ সদস্য আতিক আহমেদ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি লিখেছিলেন। কোনো কারণে তার মৃত্যু হলে ওই চিঠি যেন তাদের কাছে পৌঁছানো হয়, সেই নির্দেশনাও দিয়েছিলেন আতিক।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) আতিকের আইনজীবী বলেন, সিল করা ওই চিঠি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
এর আগে শনিবারে রাতে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাবেক সংসদ সদস্য আতিক আহমেদ ও তার ভাই আশরাফকে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিন ব্যক্তি খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেন। এসময় তারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল।
আতিকের আইনজীবী বিজয় মিশ্র বলেন, খুন হওয়ার আগে আতিক একটি চিঠি লিখেছিলেন।
চিঠিতে আতিক আহমেদ বলেছেন, যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে বা তিনি খুন হন, তাহলে বদ্ধ খামের চিঠিটি যেন ভারতের প্রধান বিচারপতি ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে, ওই চিঠিতে ঠিক কী আছে তা তার জানা নেই বলে জানিয়েছেন বিজয় মিশ্রা।
এদিকে, আতিককে খুনের পর প্রথমবার গনমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদ্যিত্যনাথ।
তিনি বলেছেন, তার শাসনআমলেন রাজ্যে দাঙ্গা দমন করেছেন। ভেঙ্গে দিয়েছেন মাফিয়াদের হাত।
যোগী আরও বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে উত্তর প্রদেশে এক হাজারের বেশি দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। তবে আমি ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সাল থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত কোনো দাঙ্গা হয়নি। এখন থেকে আর কোনো মাফিয়া কাউকে হুমকি দিতে পারবে না।

খুন হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সাবেক সংসদ সদস্য আতিক ও তার ভাই আশরফ
এদিকে, পুলিশ ও সাংবাদিকবেষ্টিত ক্যামেরার সামনে হাতকড়া পরা অবস্থায় সন্ত্রাসীরা আতিক ও তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করায় প্রশ্ন উঠেছে ভারতের আইনের শাসন নিয়েও। কারণ ওই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশের 'এনকাউন্টারে' নিহত আতিকের ছেলে আসাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছিল।
আরও পড়ুন: জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় তৎপর থাকবে পুলিশ: আইজিপি
এছাড়াও একজন দণ্ডিত অপরাধীকে প্রকাশ্যে এভাবে খুন করায় ভয়ে আছেন সেখানকার সাধারণ মানুষও। এ বছরের শুরুর দিকে আইনজীবী উমেশ পাল ও তার দুই পুলিশ রক্ষী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আতিক ও তার ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গুজরাট ও ব্যারেলি কারাগার থেকে প্রয়াগরাজ কারাগারে আনা হয়। আতিক তার নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন।
একাত্তর/আরবিএস
