৩৭ দিন পলাতক থাকার পর খালিস্তানপন্থী ‘ওয়ারিশ পাঞ্জাব দে’ (পাঞ্জাবের উত্তরাধিকারী) নেতা অমৃতপাল সিং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার পাঞ্জাব রাজ্যের মোগা পুলিশ তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত ১৮ মার্চ থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
এদিন আত্মসমর্পণের আগে গুরুদুয়ারায় ভাষণ দেন অমৃতপাল সিং। এর পরপরই আত্মসমর্পণ তিনি।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পুলিশকে অমৃতপাল বলেন, "এখানেই শেষ নয়।"
ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, রোববার ভোরে পঞ্জাবের মোগা জেলার রোডে গ্রামের একটি গুরুদুয়ারার সামনে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন অমৃতপাল। শনিবার রাতেই মোগায় তিনি চলে এসেছিলেন বলে খবর। তার আসার খবর অমৃতপাল নিজেই পুলিশকে জানান। তার পর রোববার ভোরে গুরুদ্বারে হাজির হন এ পলাতক নেতা।
এসময় সেখানে তাকে দেখতে জড়ো হয়েছিলেন অনেকে। সকলের সামনে গুরুদুয়ারায় ভাষণ দেন অমৃতপাল। এরইমধ্যে সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে ভাষণে তিনি ঠিক কি বলেছেন তা ভিডিওতে শোনা যায়নি।
গ্রেপ্তারের পর তাকে মোগা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় অমৃতসরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাতিন্ডা বিমানবন্দরে অমৃতপালের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হবে। তারপর সেখান থেকে খলিস্তানি নেতাকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে অসমে। ডিব্রুগড় জেলে তার দলের বাকি সদস্যদের রাখা হয়েছে। তাকেও আপাতত সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।
অমৃতপালের গ্রেপ্তারের খবরটি টুইটারে নিশ্চিত করেছে পঞ্জাব পুলিশ। একইসঙ্গে রাজ্যবাসীর কাছে শান্তিশৃঙ্খলা বজার রাখার অনুরোধও জানিয়েছে পুলিশ। কোনো রকম ভুয়া খবর না ছড়ানোর আহবান জানানো হয়েছে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অমৃতপালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতির মধ্যে বৈষম্য ছড়ানো, খুনের চেষ্টা,পুলিশকে আক্রমণ এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে অমৃতসরের কাছে অঞ্জলা থানার লকআপে বন্দি সঙ্গীকে ছাড়ানোর জন্য কয়েকশ' জনকে নিয়ে ১৮ মার্চ হামলা চালান অমৃতপাল এবং তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী পপ্পলপ্রীত সিংহ। ওই ঘটনার পর থেকেই দু’জন পলাতক ছিলেন। তবে ১০ এপ্রিল পপ্পলপ্রীতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
একাত্তর/আরবিএস
