রক্ত, অশ্রু আর অসীম ত্যাগে জিয়া পরিবারের অবিনাশী পথচলা!

বাবা-মায়ের পর বিশ্বমঞ্চে সন্তান

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়া, আর আজকের দেশনায়ক তারেক রহমান- জিয়া পরিবারের ইতিহাস হলো রক্ত, অসীম ত্যাগ, নির্মম নির্যাতন এবং এ দেশের মানুষের সাথে এক অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসায় লেখা এক মহাকাব্য।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ থেকে এই পরিবারটিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার বহু কুচক্রী ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস আর জনগণের ভালোবাসা আজ সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে তাঁদের আবার দেশের নেতৃত্বে বসিয়েছে, যা বিশ্বরাজনীতিতেই এক নজিরবিহীন অধ্যায়।

এই গৌরবান্বিত যাত্রার সূচনা করেন স্বাধীনতার ঘোষক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর দেশপ্রেম এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন এ দেশের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। কিন্তু এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে তাঁকে চিরতরে কেড়ে নেয়া হলো, রেখে গেলেন এক অবিনশ্বর জাতীয়তাবাদী চেতনা।


তাঁর শাহাদাতের পর রাজনীতির রাজপথে আবির্ভূত হলেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হলেন ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে। তাঁর জীবন হয়ে উঠল এক ধৈর্য আর অসীম ত্যাগের মহাকাব্য।

খালেদা জিয়াকে তাঁর বহু বছরের স্মৃতিবিজড়িত ঘর থেকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হলো, মাটির সাথে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো সেই বাড়ি, যেন একটি পরিবারকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার এক অপচেষ্টা। মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জড়িয়ে তাঁকে পাঠানো হলো নির্জন কারাবাসে। চরম অসুস্থতার মধ্যেও তাঁকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, ঠেলে দেয়া হয়েছে অনিশ্চিত এক জীবনের মুখে।

এই নির্মমতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি জিয়া পরিবারের ছোট সন্তানও। নির্বাসিত জীবনে দূর পরবাসে পরলোক গমন করতে হয়েছে আরাফাত রহমান কোকোকে। অন্যদিকে, তারেক রহমানের ওপর চালানো হয়েছে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন। জীবন বাঁচাতে ও দলের নেতৃত্ব ধরে রাখতে তাঁকে বেছে নিতে হয়েছিল দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কঠিন পথ।

বছরের পর বছর ধরে জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে চিরতরে মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা চলেছে। কিন্তু ক্ষমতার বন্দুক বা ষড়যন্ত্রের জাল কখনো জনগণের হৃদয় থেকে এই পরিবারের নাম মুছে ফেলতে পারেনি।


ইতিহাসের সেই মহান পরিবর্তনটি আসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং লাখো মানুষের প্রাণঢালা সমর্থনের ওপর ভর করে দেশে ফিরে আসেন তারেক রহমান। জনগণের বিপুল রায়ে তিনি গ্রহণ করেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব।

দীর্ঘ নির্যাতন আর নির্বাসনের কালরাতের অবসান ঘটিয়ে প্রমাণিত হলো, জনগণের ভালোবাসার কাছে কোনো আাঁধার বা ষড়যন্ত্র টিকতে পারে না। আর পারেনি বলেই জাতির প্রতিটি চরম সংকটে বারবার হাল ধরতে হয়েছে জিয়া পরিবারকে, যাদের কাছে বাংলাদেশই প্রথম, বাংলাদেশই জীবন-মরণ।

জিয়া পরিবারের তৃতীয় অধ্যায়ের কান্ডারি তারেক রহমান সরকার প্রধান হবার বিষয়টি ছিলো এক অনিবার্য পরিণতি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে নতুন এক স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন তারেক রহমান, যেখানে সাম্য, গণতন্ত্র, কল্যাণ আর উন্নয়নই মূলমন্ত্র।


এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তারেক রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিশ্বরাজনীতি এক নতুন ও দুর্লভ ইতিহাসের সাক্ষী হলো। পিতা জিয়াউর রহমান (১৯৮০) এবং মা বেগম খালেদা জিয়ার (১৯৯৩) পথ ধরে তারেক রহমান (২০২৬) হলেন একই পরিবারের তৃতীয় সরকার প্রধান, যিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন।

জাতিসংঘের সেই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠে যখন ধ্বনিত হলো ত্যাগের রক্তে কেনা এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন, তখন বিশ্ব অবাক হয়ে দেখল এক পরিবারের সংগ্রাম ও বীরত্বের অবিশ্বাস্য কাহিনী।

স্বজন হারানোর ট্র্যাজেডি থেকে বিশ্বমঞ্চে বিশ্বজয়ের এই পথচলা, জিয়া পরিবারের এই ইতিহাস আসলে বাংলাদেশের মানুষেরই ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস। শাহাদাত, কারাবাস, বসতভিটা ধ্বংস, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা আর বছরের পর বছর ধরে চালানো অপপ্রচারের পরেও তাঁদের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে শুধু এ দেশের কোটি মানুষের ভালোবাসার অবিনশ্বর প্রার্থনায়।

আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের এই ঐতিহ্য শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং কোটি মানুষের আত্মমর্যাদার এক অনন্য প্রতীক।

একাত্তর/এআরএস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে পাঁচ দিনের সফর পূর্ণ করে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের একটি যুগান্তকারী সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি খাতে সহায়তা দেওয়ার জন্য...
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকান সামরিক সক্ষমতার ওপর আবার বড় ধরনের আঘাত হানল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। এক সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা নজরদারি...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষকরা হচ্ছেন দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারাই দেশ গড়ার যোদ্ধা।
সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির গোপন এবং বিকল্প পরিকল্পনা এখনো পুরোপুরি খারিজ করেনি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক অতি-গোপনীয় গোয়েন্দা মূল্যায়নে পাওয়া এমন তথ্যে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে বড় ধরনের তোলপাড় শুরু...
স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ঋণ অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে সালমান ফজলুর রহমান ও আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর