পূর্ব ইউক্রেনের বাখমুত শহর পুরোপুরি দখলে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। তবে, ইউক্রেন বলছে, তারা এখনো শহরটির কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
কৌশলগত গুরুত্বর চেয়ে বাখমুত এখন প্রতীকী কারণে দু’পক্ষের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রুশ বাহিনীর মনবল বাড়াতে বাখমুতে জয় চায় তারা।
আর জেদের বশে হলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায় ইউক্রেন। এরিমধ্যে বাখমুত নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন।
ইউরোপের অন্যতম বড় লবণখনির জন্য পরিচিত ইউক্রেনের বাখমুত। এক সময়ের শান্ত শহরটি চলমান যুদ্ধে এখন লন্ডভন্ড। গোটা শহরই বিধ্বস্ত।
ইউক্রেনের ভেতরে রুশ বাহিনীর আরও অগ্রসর হওয়া এবং পুতিনের দনবাস স্বাধীন করার লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাশিয়ার বাখমুত দখল করা দরকার পড়েছে।
তাই, যুদ্ধে উভয় পক্ষ শহরটিকে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে, প্রকৃতপক্ষে কৌশলগত গুরুত্বর চেয়ে বাখমুত আসলে প্রতীকী কারণে দুপক্ষের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইউক্রেনের দিক থেকে এই শহর রক্ষা প্রশ্নে একটা জেদ কাজ করছে। একই সাথে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাদের দৃঢ় প্রতিরোধ যুদ্ধের উদাহরণও এই শহর।
অন্যদিকে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার এখন একটা জয় দরকার। রুশ বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধির জন্য বাখমুতে জয় চায়, রাশিয়া। তবে সেখানে যুদ্ধ করেছে ভাড়াটে ওয়াগনার গ্রুপ।
ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরুর প্রথম মাসগুলোয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাথমিক অগ্রগতি অর্জন করলেও পরে তা ঠিকঠাক ধরে রাখতে পারেনি রাশিয়া।
রুশ বাহিনীর এমন বিপর্যয়ের মুখে গত বছরের শেষ দিকে বাখমুত দখলের লড়াইয়ে নামে ওয়াগনার গ্রুপ। তারপর থেকে বাখমুতে রুশ আক্রমণের সমর্থক হয়ে ওঠে গ্রুপটি।
এদিকে মাসের পর মাস ধরে তুমুল লড়াইয়ের পর শহরটির পতন হলে তা ইউক্রেনের মনোবলে আঘাত হানতে পারে। বাখমুতের লড়াইয়ে উভয় পক্ষের কত সেনা নিহত হয়েছে তা জানা নেই।

তবে মস্কো ও কিয়েভ উভয় পক্ষ পরস্পরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার দাবি করেছে। তাই দনবাস অঞ্চল দখলচেষ্টার ক্ষেত্রে বাখমুতের এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অধ্যায়ের ইতি টানতে মরিয়া মস্কো।
এদিকে, শহরটির দখল রুশ বাহিনীর মনোবল বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সাথে ১০ মাসের বেশি সময়ের মধ্যে রুশ বাহিনীর প্রথম বড় কোনো জয়ও নিশ্চিত হবে।
আরও পড়ুন: ভ্যাটমুক্ত হলো মেট্রোরেল সেবা
কৌশলগতভাবে বাখমুত দখল রাশিয়ার জন্য ইউক্রেনের পশ্চিম দিকে, অর্থাৎ ক্রামাটরস্ক শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ খুলে দিতে পারে।
তবে ইউক্রেন এরইমধ্যে বাখমুত শহরের আশপাশের এলাকাগুলোকে ব্যাপকভাবে সুরক্ষিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে শিগগিরই বাখমুত পুনরুদ্ধার অভিযান শুরু করবে দেশটি।
