কোনো ধরণের পূর্বশর্ত ছাড়াই রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বাইডেন প্রশাসন, জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান।
এনএইচকে'র খবরে বলা হয়েছে, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান “অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সমিতি” -এর এক অনুষ্ঠানে শুক্রবার তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে 'নিউ স্টার্ট চুক্তি' থেকে একতরফাভাবে সরে আসে রাশিয়া, এ বিষয়ে সুলিভান বলেন, আমাদের স্নায়ু যুদ্ধ-পরবর্তী পারমাণবিক ভিত্তির ফাটল ব্যাপক এবং গভীর।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করছে, যা পারমাণবিক হুমকির কবল থেকে সারাবিশ্বের মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন কৌশলের দাবি রাখে।
তবে সুলিভানের মতে, নিজেদের পরমাণু শক্তির আধুনিকীকরণের পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রচলিত অস্ত্র তৈরির মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নিরোধক ক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব।
এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের সাথে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ানো বিষয়ক আলোচনায় যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের যোগদানের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।
আরও পড়ুন: বিশ্বের সব হায়েনাদের যেভাবে হারিয়ে দিলেন এরদোয়ান
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে ‘দ্য নিউ স্টার্ট’ নাম একটি দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত একটি পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। মস্কো ও ওয়াশিংটন ঠিক কতগুলো কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে, সে বিষয়গুলো নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যকে আমলে নিয়েই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত হলেও দ্য নিউ স্টার্ট চুক্তিটি কার্যকর হয় ২০১১ সালে। কিন্তু করোনা পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি ও ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এ চুক্তি থেকে সরে আসে রাশিয়া। বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
একাত্তর/আরবিএস
