৫০ বছরের পরিকল্পনা নেয়ার কথা উল্লেখ করে দুর্যোগমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেছেন, ২০৭১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিমুক্ত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শনিবার ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এনামুর রহমান বলেন, দশ মাত্রার ভূমিকম্পেও জাপানের বহু ভবনের ক্ষতি হয় না। কারণ, জাপান সরকার এ নিয়ে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেশব্যাপী পরিকল্পনা নিয়েছে।
‘২০৭১ সালের মধ্যে বাংলাদেশও ভূমিকম্প ঝুঁকিমুক্ত হবে। জাপানের সময় লেগেছে ৩০ বছর। আমাদেরও ৫০ বছরের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
দুর্যোগমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে সন্তুষ্ট হবার সুযোগ নেই। সরকার সাধ্যমত চেষ্টা করছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য সচেতনতা বাড়ানো দরকার সেটিও অনেক এগিয়েছে।’
ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবেলায় ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড করা হয়েছে উল্লেখ করে এনামুর রহমান বলেন, ক্ষতির পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার সহজ শর্তে ভূমিকম্প সহনশীল বিল্ডিং করার জন্য ঋণ দেবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও একসময় ভূমিকম্প ঝুঁকি মুক্ত হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, শুধু ভূমিকম্প না, আমাদের অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়েছে। অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক বেশি। ভূমিকম্প কখন হবে, এটা কেউ আগে জানতে পারে না। সে কারণে একটা দীর্ঘ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
এ বিষয়ে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে তাজুল বলেন, এটা যেকোনো সময় হতে পারে। তাই পরবর্তী সময়ের ব্যবস্থাপনাটা জরুরি।
তাজুল ইসলাম বলেন, একটা বিল্ডিং বানানোর আগে খোলা জায়গা রাখতে হবে। আমাদের বিল্ডিং কোড মেনে কাজ করতে হবে। আধুনিক সিটি করতে গেলে আদর্শ ৪০ শতাংশ ফাঁকা জায়গা রাখার কথা। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ কম।
তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ছোট কম্পনের ফলে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমা বা বাড়ার দুটো বিষয়ই সঠিক। অনেক সময় ছোট ভূমিকম্পের ফলে ঝুঁকি কমে যায়, আবার ঝুঁকি বেড়েও যেতে পারে।
একাত্তর/আরবি
