বিশ্বের বেশ কিছু বিপজ্জনক জায়গার তালিকা প্রকাশ করেছে গুগল ম্যাপ। সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এমনকি কিছু কিছু জায়গার রহস্য জানতে চাওয়াও মানা। বিশ্বে এমন কিছু জায়গা আছে যার গল্প শুনলে ভয়ে ভিড়মি খাবার যোগাড় হবে। আবার কিছু জায়গায় এমন সব কাজকর্ম হয়, যা জানতেও চাইতে পারবেন না আপনি। কোন সেসব জায়গা?

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় আছে রেভেন রক মাউন্টেন কমপ্লেক্স। একে ভয়ঙ্কর জায়গা বলে চিহ্নিত করে গুগল ম্যাপ। বলা হয়, এই পাহাড়ের নিচে আছে বাঙ্কার। আর এই বাঙ্কার পরমাণু যুদ্ধের সময় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। শত্রুপক্ষ পরমাণু হামলা চালালেও এই বাঙ্কারে থাকলে কারও কোনো ক্ষতি হবে না। একে বলা হয় আন্ডারগ্রাউন্ড পেন্টাগন। আর তাই সেখানে সাধারণের ঢুকতে মানা।

গুগল ম্যাপের চোখে আরও একটি ভয়ঙ্কর জায়গা হলো ইলহা দে কোয়েমাদা গ্র্যান্ড। আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে ব্রাজিলে অবস্থিত এই দ্বীপ। এটি সাপের দ্বীপ বা স্নেক আইল্যান্ড নামে পরিচিত। মাত্র ৪৩ হেক্টর ভূমির ছোট্ট এই দ্বীপে বসবাস হাজার হাজার বিষধর সাপের। সেই তালিকায় আছে গোল্ডেন ল্যান্সহেড পিট ভাইপার। এই দ্বীপের বাইরে আর কোথাও এদের দেখা পাওয়া না গেলেও এখানে প্রতি স্কয়ার মিটারে একটা করে গোল্ডেন ল্যান্সহেড পিট ভাইপারের দেখা মিলবে। বিপুল সংখ্যক বিষধর সাপের কারণে এই দ্বীপে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের বোহেমিয়ান গ্রোভ হলো আর এক ভয়ঙ্কর জায়গা। ক্যালিফোর্নিয়ায় মন্টে রিওর বেহোমিয়ান অ্যাভেনিউয়ের দুই হাজার ৭০০ হেক্টর জুড়ে এই জায়গা। সান ফ্রান্সিসকোর এক ক্লাব এই জমির মালিক। এখানে প্রতি বছর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় এক বার করে গোপন গেট টুগেদার ক্যাম্পিং করেন প্রভাবশালী রাজনীতিক, সঙ্গীতশিল্পী ও বিশিষ্টজনরা। এর স্থায়িত্ব হয় সাধারণত দুই সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি। কী হয় সেখানে, তা বাকি দুনিয়ার কাছে অজানা থাকে।

উত্তর সাগরের মধ্যে আছে এক দ্বীপ। সেখানে রয়েছে বিশাল এক খিলান। নাম সভালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট। একে ডুমস-ডে সিড ভল্টও বলা হয়। কথিত আছে, এই খিলানে প্রায় ২৫ কোটি টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। পৃথিবীতে যে দিন চরম খাদ্যাভাব তৈরি হবে, সেদিন নাকি কাজে আসবে এই শস্য। আর একারণেই এর নামকরণ ডুমস-ডে সিড ভল্ট। এই ভল্টে সবার প্রবেশের অধিকার নেই। আর তাই অনেকটাই রহস্যে ঘেরা এই ভল্ট।

একটি আবদ্ধ শহরের নাম মিজগরি। এটি রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত। মনে করা হয় যে, এই অঞ্চলে বসবাসকারী লোকেরা কোনো নির্দিষ্ট মিশনে রয়েছেন। এবং মাউন্ট ইয়ামান্তাউয়ের পর্বতগুলোর চারপাশে অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তায় তাদের গোপন প্রোগ্রামগুলোতে কাজ করছেন। সেখানে যে কী আছে তা আদৌ কেউ জানে না। সবটাই অনুমান। সেখানেও কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না, প্রবেশ নিষিদ্ধ।

আন্দামানের উত্তর সেন্টিনেল পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। জঙ্গলে ভরা এই দ্বীপে বসবাস করতো আদিম উপজাতি জাড়োয়ারা। তথাকথিত সভ্যতার আলো থেকে এরা আজও নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ২০০৬ সালে অবৈধভাবে তাদের দ্বীপে প্রবেশের অপরাধে এক মৎস্যজীবীকে হত্যা করে এই উপজাতির লোকেরা। সভ্য জগতের মানুষদের শত্রু বলে মনে করে এই উপজাতিরা। আর শত্রু দেখলেই তারা তাদের মেরে ফেলে। তাই এই দ্বীপটিকে বিপজ্জনক স্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
