ভোট বেশি হলেও মনোনয়নের ভুলে প্রায়ই নৌকা হেরে যায় মেহেরপুর-২ আসনে। শুধু গাংনী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে একজন আওয়ামী লীগ নেতা জয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে। একই কারণে ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে জয়ী হন বিএনপি প্রার্থী।
এবারও আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন চাইবেন অন্তত তিনজন। পাশাপাশি এবার আওয়ামী জোটের ভাগ চাইবে ওয়ার্কার্স পার্টি। কোন্দল রয়েছে বিএনপিতেও। আর, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন এখানে তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। তারাও নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শুধু গাংনী উপজেলা নিয়ে গঠিত মেহেরপুর-২ আসনের বেশিরভাগ মানুষই কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানের সবজি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়া সবক্ষেত্রেই গেল ১৫ বছরের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো।
এক সময় আতঙ্কিত এক জনপদের নাম ছিল গাংনী। চরমপন্থী অধ্যুষিত এ এলাকায় অস্ত্রের ঝনঝনানি এখন আর নেই বললেই চলে। বলা যায়, অনেকটাই শান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এ জনপদ। তবে কিছু রাজনৈতিক রেষারেষি থাকলেও সেটা সহনীয়। কমেছে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের উপদ্রব।
বিএনপি থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ১৯৮৬ সালের পর ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় পায়। ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, এটা দলের ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র।
এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন আবারও নৌকার মাঝি হতে চাইছেন। তিনি ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক, সাবেক ছাত্রনেতা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সদস্য ডা. এ এস এম নাজমুল হক সাগরও নির্বাচন করতে চান।
সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। কোনো সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের স্থান নেই এখানে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের পাশে আমি ছিলাম, এখনো আছি। তাই এবারও আমি মনোনয়ন পাব বলে আশা করছি।
আওয়ামী লীগের অনেক নেতার দাবি, খোকনের বাবা একজন রাজাকার ছিলেন। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বর্তমান সংসদ সদস্য বলেন, এটা বিরোধিতা ছাড়া আর কিছুই না। কারণ, এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ নেই আমার বাবা রাজাকার ছিলেন। বর্তমানে দলে বিভেদ নেই, তবে প্রতিযোগিতা আছে।
বিএনপিতেও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী। তার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন এবং মেহেরপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ভিপি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আলোচনায় রয়েছেন।
আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার আমরা। গাংনীতে কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে পারি না। প্রায়ই হামলা থেকে শুরু করে পুলিশি ধরপাকড় চলে। তারপরও আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো পালন করে আসছি। রাজপথে আন্দোলনে থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মেহেরপুর-১ আসন। এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৬ হাজার ২০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৭ জন আর মহিলা ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৩৭ হাজার ৬৫২ জন।
গাংনীর ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনের পরিবেশ ভিন্ন হবে। তবে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে যদি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এক কাতারে সমর্থন করে তাহলে এই আসনটি পেতে পারে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি আসলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
মেহেরপুর-১: বড় দুই দলে বিভক্তি কম, জমবে ভোটের লড়াই