দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ঈগল প্রতীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জলঢাকা উপজেলার টেঙ্গনমারী বাজারের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মার্জিয়া সুলতানার ঈগল প্রতীকের পথসভায় অংশ নিয়ে তারা ভোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
ওই দুই প্রার্থী হলেন- জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ শামিম (মোড়া প্রতীক) এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক স্বতন্ত্র প্রার্থী হুকুম আলী খান (ট্রাক)।
তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে থেকে সরে গিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী মার্জিয়া সুলতানার ঈগল প্রতীকে সমর্থন জানান।
আসনটিতে এবারে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা।
একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল করেন তার স্ত্রী জেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি মার্জিয়া সুলতানা। এছাড়া মনোনয়ন দাখিল করেন- উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ শামিম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহাবায়ক হুকুম আলী খান ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পাভেল।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মার্জিয়া সুলতানার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করে রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে আসনটি জাতীয় পাটিকে ছেড়ে দেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। তিনি প্রত্যাহার করলে নির্বাচনের মাঠে থেকে যান দলের চার স্বতন্ত্র প্রার্থী।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, শুক্রবার বিকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ শামিমের টেঙ্গনমারী বাজারের বাসভবনে দলের কিছু নেতাকর্মীর উপস্থিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ শামিম, মার্জিয়া সুলতানা, হুকুম আলী খান ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর সন্ধ্যায় টেঙ্গনমারী বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মার্জিয়া সুলতানার ঈগল প্রতীকের পথসভায় যোগ দিয়ে মার্জিয়া সুলতানাকে সমর্থন জানিয়ে আবু সাঈদ শামিম ও হুকুম আলী খান নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
দুই প্রার্থীর নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাওয়া ঘোষণার পর এখন মাঠে রইলেন ঈগল প্রতীক নিয়ে মার্জিয়া সুলতানা এবং কাঁচি প্রতীক নিয়ে সাদ্দাম হোসেন পাভেল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরা প্রতীকের আবু সাঈদ শামিম বলেন, জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের ঐক্যের জন্য আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।
অপরদিকে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী হুকুম আলী খান বলেন, দলের এবং এলাকার বৃহৎ স্বার্থে আমরা সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার সহধর্মীনীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালাম। আমরা আজ থেকে ঈগল প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ভোট চাইবো।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের মধ্যে একাধিক প্রার্থী ছিল। আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে, দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে ও ঈগল প্রতীকের বিজয়ে স্বার্থে, নির্বাচনে জয়ের স্বার্থে তারা নির্বাচন থেকে সরে এসেছেন।
ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মার্জিয়া সুলতানা বলেন, আমাকে সমর্থন দেওয়া তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। জনগণের ভোট আগামী সাত জানুয়ারি ঈগল প্রতীকের জয় সুনিশ্চিত।
আসনটিতে আট প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন- জাতীয় পাটির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল (লাঙ্গল)। তার বিপরীতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা জাতীয় পাটির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কাজী ফারুক কাদের (কেতলি)।
অপর প্রার্থীরা হলেন, তৃণমূল বিএনপির খলিলুর রহমান (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির বাদশা আলমগীর (হাতঘড়ি )।
সাবান বিক্রির সঙ্গে ভোটও চাইছেন প্রার্থী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইনের ক্লিপ খুলে যুবক আটক