সন্ধ্যাটা ছিল মমতা শঙ্করময়। উৎসবের মূল ভেন্যু জাতীয় জাদুঘর ঘিরে গেলদিনের মতো ভিড় নেই। ভাটা ছিলো উচ্ছ্বাসেও। তবুও ঠিক সন্ধ্যায় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মমতা যখন গাড়ি থেকে নামলেন তখন দিনের উৎসবের ফোকাসটা তাকে ঘিরেই যেন স্থির হলো।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাটাই ছিল এবারের উৎসবে তার শেষ সন্ধ্যা!
উৎসবের পঞ্চম দিনটা ছিলো দারুণ রঙিন। এদিন উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর। আর বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় মুগ্ধ হলেন দর্শক আতিথেয়তায়। এদিনই দেখানো হয়েছিল মমতা শঙ্কর অভিনীত ‘বিজয়ার পরে’ ছবিটি।
আলাপে সে আনন্দই ভাগ করেছিলেন মমতা। বললেন, ‘আপনাদের প্রধানমন্ত্রী এরকমভাবে ডেকেছেন। এতক্ষণ কথা বললেন, আমি মুগ্ধ। কালকেই (বুধবার) আমাদের সিনেমাটা দেখানো হলো। এবং এখানে যেরকম সাড়া পেলাম, ভাবা যায় না। আমার পরিচালক অভিজিৎও না, আমরাও না। অসাধারণ। বাংলাদেশের এই জিনিসটাই আমার ভালো লাগে, লোকের মনের ছোঁয়াটা পাওয়া যায়। বৃষ্টিতে লাইন ধরে সবাই দাঁড়িয়েছিল। কি করে যে এত ধৈর্য্য। অনেক মানুষ ফিরেও গেছেন, ছবি দেখতে না পেরে। এত মানুষ হয়েছিল।’
বাবা উদয় আর মা অমলার কথা বলতেই বললেন, ‘বাবার কাছে অভিনয়। মায়ের কাছে নাচ। নাচ আর অভিনয়-দুটোরই মানুষ আমি। দুটোকেই ভালোবাসি। আমি তো সবসময় বলি, আমার দুই ছেলের মতো। রাতুল আর রাজীব। তাদের মধ্যে যেমন পার্থক্য করতে পারব না যে কাকে ভালোবাসি, তো নাচ আরও অভিনয় আমার কাছে তেমন।
উৎসব নিয়ে বললেন, ‘দেখুন না, সন্ধ্যায় হোটেলে না থেকে চলে এলাম, আপনাদের সঙ্গে থাকবো বলে। আর বাংলাদেশ এত ভালো ফিল্ম তৈরি করে! আপনারা যেভাবে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছেন তা ভীষণ ভালো।’
আলাপে কিংবদন্তি মৃণাল সেন প্রসঙ্গ আসতেই বললেন, ‘আজকে মৃণাল দা না হলে এখানে আপনি বসে আমার ইন্টারভিউ করতেন না। সুতরাং মৃণাল দা’র জন্যই এই জায়গায় আমি পৌঁছাতে পেরেছি। মৃণাল দা যে আমার কাছে কি ছিলেন! তিনি আমার বাবার মতো। দাদার মতো। তিনি আমার বন্ধু।’
পূর্ণতার গল্পেই মমতার কন্ঠে ঝরলো আক্ষেপ।
‘কলকাতায় আমাদের বাড়ির সবার দুঃখ, আমার বাবা উদয় শঙ্করের নামে একটা মঞ্চ হলো না। এই দুঃখগুলো থেকেই গেলো!’
