পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থীরা দেশটির ডানপন্থি দল সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে (এসআইসি) যোগ দেবেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ব্যারিস্টার গোহর আলি খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পিটিআই নেতা রওফ হাসান, প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ওমর আইয়ুব খান, এসআইসি চেয়ারম্যান সাহেবজাদা হামিদ রাজা ও মজলিশ ওয়াহাদাত-ই-মুসলিমীন (এমডব্লিউএম) মহাসচিব আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা দেন গোহর আলি খান।
তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীরা তাদের অ্যাফিডেভিট জমা দিয়েছেন এবং দলের সম্মতিতে আজ আমরা ঘোষণা করছি যে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্ররা সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগদান করছেন।
তিনি আরও জানান, পিটিআইয়ের সমর্থিত যেসব প্রার্থী জাতীয় পরিষদসহ পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়াতে বিজয়ী হয়েছেন, তারা সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগ দেবেন।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ৭০টি এবং প্রাদেশিক পরিষদে ২২৭টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। এই আসনগুলো নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর অনুপাতে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই বণ্টন করা হবে। কিন্তু পিটিআইকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় এই দলের বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ছোট আরেকটি দলে যোগ দিচ্ছে। ফলে বিজয়ী আসনের অনুপাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করতে পারবে দলটি।
এছাড়াও বিজয়ী প্রার্থীরা সুন্নি ইত্তিহাদে যোগ দেওয়ায় পিটিআইয়ের শক্তি আরও বাড়বে বলে মত দিয়েছেন দলটির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ওমর আইয়ুব।
তিনি জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের পর তারা সরকার গঠনের অবস্থানে থাকবেন।
এর আগে গেলো ৮ ফেব্রুয়ারি নানা নাটকীয়তা ও সহিংসতার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভোটে এককভাবে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন ইমরান খানের দল পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্ররা।
পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্ররা অপ্রত্যাশিতভাবে ৯৩ আসন জিতেছে। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য তাদের যথেষ্ট আসন ছিলো না। অন্যদিকে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৫ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ আসনে জয় পায়।
মোট ২৬৬টি আসনের মধ্যে এককভাবে সরকার গঠনে কোনো এক দল বা জোটের প্রয়োজন ১৩৪টি আসন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সব দলদের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি শুরু হয়। ইতিমধ্যে জোট সরকার গঠনের জন্য পিএমএল-এন ও পিপিপি সোমবার পঞ্চম বারের মতো বৈঠকে বসে।
গাজা নিয়ে লুলার মন্তব্যে মুখোমুখি ব্রাজিল-ইসরাইল
মিয়ানমারে সংঘাতের মধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি জান্তার