দখলদার ইসরাইলের সাথে ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির’ পরিকল্পনা মেনে নিতে ফিলিস্তিনের হামাস সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিংকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর মঙ্গলবার ব্লিংকেন এ আহবান জানান। খবর এনডিটিভি ও ওয়াশিংটন পোস্টের।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিসহ জিম্মিদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার একটি সুযোগ আমরা পেয়েছি যাতে মানবিক সহায়তা সরবরাহ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শর্ত দেয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হামাস যুদ্ধবিরতিতে অংশ নিতে প্রস্তুত কিনা সে সিদ্ধান্ত তাদের।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিনই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সেখানে দুর্ভিক্ষ অনিবার্য বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
এ অবস্থাতেই গাজায় যুদ্ধ আরও জোরদার হয়েছে। হামাসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান শহর খান ইউনুসের কাছে হামাদে ইউরোপীয় হাসপাতালের নিকটে ইসরাইল একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে।
খান ইউনুসের বাসিন্দারা বলছেন, তারা রাস্তায় পচা লাশসহ বাড়িঘর ও দোকানপাট ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
এদিকে আলোচনার মধ্যস্থতাকারীরা গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা চালিয়ে নিতে তৃতীয় দিনের মতো মিশরের রাজধানী কায়রোতে বসেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস প্রতিনিধিরা মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে বসে আসন্ন রমজান মাসের আগেই জিম্মি মুক্তি বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধের জন্যে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র একজন কর্মকর্তার বরাতে মিশরের আল কাহেরা নিউজ বলেছে, আলোচনা কঠিন, তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয় হামাস। এসময় ইসরাইলি সেনাসহ ২০০ বা তারও বেশি লোককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যান হামাসের যোদ্ধারা।
হামাস জানায়, ইসরাইলের কারাগারে জিম্মি থাকা কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি না দিলে, আটক ইসরাইলিদের মুক্তি দেবে না সংগঠনটি। পরে ইসরাইলের সাথে চারদিনের যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি করে হামাস সরকার। চারদিনের যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইলের কারাগারে বছরের পর বছর ধরে বন্দি থাকা মোট ১৫০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয় ইসরাইল। আর বিনিময়ে গাজায় আটক ৫০ ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেয় হামাস।
হামাসের হাতে এখনও প্রায় ১৫০ জন ইসরাইলি বন্দি রয়েছেন। দফায় দফায় অভিযান চালিও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি ইসরাইল।
ইরান সমর্থিত সংগঠটি বলছে, ফিলিস্তিনের সব বন্দিকে মুক্তি দিলে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে, তার আগে নয়।
ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভারতীয় নিহত, আহত দুই
ক্রমশ একা হয়ে পড়ছেন নেতানিয়াহু!
সুপার টুয়েসডেতে বাইডেন ও ট্রাম্পের জয়
বার্লিনে টেসলার কারখানায় উগ্র বামপন্থিদের হামলা, উৎপাদন বন্ধ