মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কাছ থেকে একের পর এক শহর দখল করে নিচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। বিশেষ করে পশ্চিম উপকূলের রাখাইন রাজ্যে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে জান্তা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাখাইনের রাথিডং শহর দখলে নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
মিয়ানমার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোববার রাতে রাথিডং শহর দখলের তথ্য নিশ্চিত করেছে এএ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেলো দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে টিকতে না পেরে রোববার রাতে জান্তা বাহিনীর অন্তত ২০০ সেনাসদস্য অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালিয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, জান্তা বাহিনী তাদের দখলে থাকা এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কন্সক্রিপশন আইনের আওতায় যোগ দেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থল ও সমুদ্রপথের পাশাপাশি আকাশপথেও বোমাহামলা চালাচ্ছে। তবে এতো কিছুর পরও রাথিডংয়ে টিকতে পারেনি জান্তা বাহিনী।
এর আগে রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চল নিজেদের দখলে নেয় আরাকান আর্মি। রাখাইনে নিজেদের আনুষ্ঠানিক বিজয়ও ঘোষণা করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
২০২০ সালের ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অং সান সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ৪১২ আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয় পায়। কিন্তু অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে সেনাবাহিনী।
এরপর ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে তাদের নিপীড়ন-নির্যাতন ও হামলায় অন্তত সাড়ে চার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে। জান্তা বাহিনীর নৃশংস হামলায় মিয়ানমার জুড়ে অন্তত ৭৮ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আরাকান আর্মিসহ দেশটির একাধিক গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
‘বিভ্রান্তিকর’ বিজ্ঞাপন, রামদেবকে ডেকে পাঠালো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
চীনে ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিয়ে