ভারতের বহুল আলোচিত-সমালোচিত যোগগুরু রামকৃষ্ণ যাদব ওরফে বাবা রামদেবকে মিথ্যা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত মামলায় তলব করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার রামদেবের সঙ্গে তার সহযোগী ও পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আচার্য বালকৃষ্ণকেও ডেকে পাঠিয়েছে ভারতের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমান্নুলার বেঞ্চ রামদেব এবং বালকৃষ্ণকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ হরিদ্বারভিত্তিক একটি ভোক্তা প্যাকেজ পণ্য কোম্পানি, যা ২০০৬ সালে রামদেব এবং বালকৃষ্ণ শুরু করেছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও আনান্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলিকে নোটিস দিয়ে জবাব চেয়েছিলো সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই নোটিসের কোনো জবাব না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানান, আগের নোটিসের উত্তর না দেয়ায় পতঞ্জলির ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে পরবর্তী শুনানির দিন আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে।
গেলো বছরের নভেম্বরে পতঞ্জলিকে বিভিন্ন রোগের প্রতিকার হিসাবে নিজেদের ওষুধ সম্পর্কে ‘বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা’ প্রচার করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলো আদালত। জরিমানা হতে পারে বলে মৌখিকভাবে জানানোও হয়েছিলো।
এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে সেই মামলাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট। মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিলো, এই ধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গোটা দেশকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সরকার চোখ বন্ধ করে বসে আছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।
রামদেবের সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলো ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)।
সংস্থাটির অভিযোগ, পতঞ্জলির বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা এবং চিকিৎসককে অসম্মান করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
এদিকে কোভিড প্রতিরোধী না হওয়া সত্ত্বেও শুধু করোনিল কিট বিক্রি করেই আড়াইশো কোটি রুপির বেশি মুনাফা করেছিলো রামদেবের পতঞ্জলি। আর তার জন্য ‘বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা’ বিজ্ঞাপনী প্রচার চালানো হয়েছিলো বলে অভিযোগ ছিলো আইএমএ-র।
২০২০ সালের ২৩ জুনে প্রথমবার করোনিল কিট বাজারে এনেছিলো পতঞ্জলি। ‘করোনিল’ এবং ‘শ্বাসারি বটি’ নামে দু’ধরনের ট্যাবলেট এবং ‘অণু তৈল’ নামের ২০ মিলিলিটারের একটি তেলের শিশি নিয়ে তৈরি ওই কিটের দাম রাখা হয়েছিল ৫৪৫ টাকা। চাইলে আলাদাভাবে ট্যাবলেট এবং তেল কেনা যাবে বলেও জানানো হয়েছিলো। তারপর একই বছরের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৩ লাখ ৫৪ হাজার করোনিল কিট বিক্রি হয়েছে বলে পতঞ্জলির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে গাজা, খাদ্য সংকটে ১১ লাখ মানুষ
রাফায় হামলা ভুল হবে, নেতানিয়াহুকে ফোনালাপে বাইডেন