দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের সব কটি পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। সেচের অভাবে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান এখন শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
স্থানীয় কেউ কেউ অগভীর নলকূপে সেচ দিতে পারলেও এতে বাড়তি খরচের কারণে ধানের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
পানি না পেয়ে সেচের অভাবে মাটি ফেটে চৌচির। দুর্দশার কারণ, জিকে সেচ প্রকল্পের তিনটি পাম্পের সবগুলো নষ্ট। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প এটি।
প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা পায় চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার এক লাখ হেক্টরেরও বেশি কৃষি জমি। তবে গত বছর দুটি পাম্প নষ্ট হওয়ায় মাত্র ১৫ হাজার হেক্টর জমি ছিলো সেচের আওতায়। কিন্তু এবার একমাত্র সচল পাম্পটিও অচল হয়ে গেছে। এতে শুকিয়ে যাচ্ছে খেতের ধান।
জিকে প্রকল্প থেকে বছরের তিন মৌসুম এক একর জমিতে সেচের জন্য খরচ হতো মাত্র ৬০০ টাকা। এখন অগভীর নলকূপে সেচ দিতে গেলে প্রতি বিঘাতেই গুনতে হবে সাড়ে তিন হাজার টাকা। কেউ কেউ বাড়তি খরচে এই সেচ দিতে পারলেও বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের কৃষকরা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, অনেকে বিকল্প উপায়ে সেচ দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে এতে বেড়ে যাবে উৎপাদন খরচ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ অবশ্য বলছেন জিকে প্রকল্পের সংস্কার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ হলেই সমস্যার সমাধান হবে।
১৯৫১ সালে প্রাথমিক জরিপের পর ১৯৫৪ সালে জি-কে সেচ প্রকল্প অনুমোদন পায়। চালু হয় ১৯৬২-৬৩ সালে। শুরুতে বছরের ১০ মাস (১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর) দিনরাত ২৪ ঘণ্টা তিনটি পাম্পের মাধ্যমে পানি তোলা হতো। বাকি দুই মাস চলতো রক্ষণাবেক্ষণ।
১৯৩ কিলোমিটার প্রধান খাল, ৪৬৭ কিলোমিটার শাখা খাল ও ৯৯৫ কিলোমিটার প্রশাখা খালের মাধ্যমে সেচ প্রকল্পের পানি কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলায় সরবরাহ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় সেচযোগ্য এলাকা রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ১০৭ হেক্টর।
মূলত আমন চাষে পানির ঘাটতি মেটাতে প্রকল্প শুরু হয়েছিলো। কিন্তু সেটি প্রায় সারা বছরই তিন মৌসুমে কাজে দিচ্ছিলো। তবে পদ্মায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তিন-চার বছর আগে থেকে বোরো মৌসুমে শুধু কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়। মাগুরা ও ঝিনাইদহের খালগুলোর কপাট বন্ধ রাখা হয়।
সেচ প্রকল্পের প্রধান এবং শাখা খালে পানি থাকলে সেচের পাশাপাশি আশপাশের নলকূপ ও পুকুরে পানি স্বাভাবিক থাকে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
পদ্মায় পানির স্তর স্বাভাবিক থাকলে প্রকল্পের একেকটি পাম্প প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ২৮ হাজার ৩১৬ দশমিক ৮৫ লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। তিনটি পাম্পের মধ্যে ২ ও ৩ নম্বর পাম্প দুটি কয়েক বছর ধরে বিকল।
এ ছাড়া বিকল্প হিসেবে আরও ১২টি ছোট পাম্প ছিলো। সেগুলোও ২০০১ সাল থেকে বিকল।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সেচ প্রকল্পের আওতায় খালে পানি সরবরাহের কথা ছিলো। কিন্তু তখন পদ্মায় পানির স্তর নেমে গিয়েছিল। এ ছাড়া ভেড়ামারায় প্রধান খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ চলছিল। সেখানে মাটি ফেলে খালের অনেকাংশ ভরাট করে রাখা হয়। এসব কারণে সময়মতো পানি সরবরাহ সম্ভব হয়নি।
চলতি বছরে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ নম্বর পাম্প চালু করে পানি ছাড়া হয়। কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল পৌনে পাঁচটায় পাম্পটি বিকল হয়ে যায়। ফলে সেচের পানি সরবরাহ এখন পুরোপুরি বন্ধ।
ফেনীতে ৬৬৫ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি শুরু
চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে যেভাবে টাকা হাতাতেন তারা 