ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলো আজমেরী হক বাঁধনের নাম। এ অর্জন তার অভিনয়শিল্পী জীবনের খ্যাতির জন্য নয়, বরং তার ব্যক্তি জীবনের লড়াইয়ের জন্য পাওয়া। তবে তার সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় বাস্তব ও অভিনয় উভয় জীবনেও। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম নারী যিনি আদালতের নির্দেশই মা হিসাবে সন্তানের পূর্ণ অভিভাবকত্ব পেলেন।
অভিভাবকত্ব পাওয়া নিয়ে বাঁধন যেভাবে তার উচ্ছ্বাস ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, তা তুলে ধরা হলো:
‘আমার সন্তানকে আমি কাউকে নিয়ে যেতে দেবো না। মেয়েদের অধিকার, মেয়েদের স্বাধীনতা এগুলো থেকে যে আমরা বঞ্চিত, তা বুঝতেই আমাদের অনেক বয়স পার হয়ে যায়। এখন যে রুলটা জারি হয়েছে আমার নামে, আমি ৬ থেকে ৭ বছর আগে যে প্রশ্নটা করেছিলাম- কেন আমি আমার সন্তানের অভিভাবক হতে পারবো না, কেন আমি আমার বাচ্চার গার্ডিয়ান হতে পারবো না? তারা বলেছিল, এটা আইনে নেই। তখন আমার একটাই প্রশ্ন ছিল, আমার মৌলিক অধিকার কি নেই, মানবাধিকার থেকে কি আমি বঞ্চিত হচ্ছি না? তাহলে আমার অস্তিত্ব কোথায় এই সোসাইটিতে? এগুলোর কোন উত্তর আমি পাইনি। আমি জানতাম না আমি কিসের বিরুদ্ধে ফাইট করছি, আমি শুধু একজন সাধারণ মা হিসেবে আমার অধিকারটা চেয়েছি । আমাকে অনেক সাফার করতে হয়েছে। আমার হয়ে যে পাঁচটি সংগঠন এই আপিলটা করেছে তারা বলেছে ১৯৯০ সালের ১৯ এর খ ধারাটি অভিভাবকত্ব আইনে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ সালে পারিবারিক আদালত আমার পক্ষে রায় দেয়। আমি আমার সন্তানের পূর্ণ অভিভাকত্ব পাই। ঐ দিনটা আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিনের মধ্যে একটা। মনে হচ্ছিল আমি নতুন জন্ম পেয়েছি। এটা যে এতো বড় একটা ঘটনা, তা অনুভব করার মতো ম্যাচিউরিটি আমার ছিল না। আমি তখন হিজাব পরে কোর্টে যেতাম, আমি লজ্জা পেতাম। কিন্তু এখন আমি আত্মবিশ্বাসী হয়েছি, কথা বলতে শিখেছি।
ছোটবেলায় আমি মুরগির বাচ্চা খুব পছন্দ করতাম। একদিন একটা মুরগির বাচ্চা আনতে গিয়ে মা মুরগিটা আমাকে ঠোকর দিয়ে অবস্থা খারাপ করে দেয়। কিন্তু আমি তো বাচ্চা মুরগিটাকে ভাল জায়গায় রাখতাম তাও মা মুরগিটা আমাকে দিল না তার বাচ্চাকে। একটা মুরগি বুঝে যে, সে তার সন্তানকে কাউকে দিবে না এবং কী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে, তা আমি দেখেছি।’’
