আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হচ্ছে আইটি খাতের কর অব্যাহতি বা ট্যাক্স হলিডে সুবিধা। এই সুবিধা উঠে গেলে দেশকে আইসিটি খাতের হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হবে বলে মনে করেন বেসিস নির্বাচনের অন্যতম প্যানেল, টিম স্মার্টের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ।
একাত্তরকে তিনি জানালেন, স্মার্ট দেশ নির্মাণে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ট্যাক্স হলিডে থাকা দরকার।
প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবসার বৈশ্বিক বাজার প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশ গেল প্রায় দেড় দশকে এমন একটি জায়গায় এসেছে, যেখানে বছরে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বাজার তৈরি হয়েছে। এই বিকাশে ভূমিকা রেখেছে সরকারের সাময়িক কর অব্যাহতি বা ট্যাক্স হলিডে সুবিধা।
তবে মুশকিল হলো এই কর ছুটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী দুই মাসের মধ্যে। আসন্ন বেসিস নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া প্যানেল টিম স্মার্টের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদের শঙ্কাটা এখানেই। তার মতে এই সুবিধা উঠে গেলে ব্যবসা পরিচালনার খরচ যেমন বাড়বে তেমনি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান।
টিম স্মার্ট প্রার্থী নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, আমি বিশ্বাস করি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত ট্যাক্স হলিডে রাখা উচিত।
এই উদ্যোক্তা জানান, বিশ্বের তরুণ উদ্যোক্তারা দুটি জায়গা থেকে সমর্থন পেয়ে থাকেন। প্রথমত ‘অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর’। যেখানে একজন বিনিয়োগকারী কেবল আইডিয়ার ওপর দাঁড়িয়ে বিনিয়োগের ঝুঁকি নেন। দ্বিতীয়ত ব্যাংক ও সরকারের ঋণ। এই দুটিরই অভাব আছে দেশে। তাই এই ক্ষেত্রেই কাজ করতে চান তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তার আগেই এটির বাস্তবায়ন দরকার ছিলো।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক রাশেদ মেহেদী এ বিষয়ে বলেন, আগামীতে যারা আসবেন, তাদের গ্লোবাল মার্কেট বিবেচনা করে সরকারের কাছে তা উপস্থাপন করে কী কী প্রয়োজন সে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
প্রযুক্তির বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব এখনও অনেক কম। বেসিসের নতুন নেতৃত্বে যারা আসবেন, তাদের এ বিষয়ে মনোযোগ দেবার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
২০০৫ সাল থেকে কর্পোরেট কর অব্যাহতি পাচ্ছে আইটি, আইটিইএস খাত। এ খাতে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতি বছর কর মওকুফ সনদ ইস্যু করে আসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী জুনে।
অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানো না হলে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আয়ের ওপর ২৭ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হবে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশে ও বিদেশে আইটি, আইসিটি এবং আইটিইএস খাতের ৩৪০ কোটি ডলারের বাজার রয়েছে। এর মধ্যে রপ্তানি বাজার ১৮০ কোটি ডলারের। এ খাতে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
২০২৫ সাল নাগাদ ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি এবং ২০৩১ সাল নাগাদ আরও ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এই খাতে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আইসিটিখাতে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তাতে কর অব্যাহতির সহায়ক ভূমিকা ছিলো। ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এই অব্যাহতি বহাল থাকা দরকার। তা না হলে দেশীয় আইটি শিল্প মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
প্রযুক্তির দানব হুয়াওয়ের গল্প