রাজধানীর মিরপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর, পুলিশ বক্সে আগুন, পুলিশকে আহত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে তিন থানায় চারটি মামলা করেছে পুলিশ। মামলাগুলোতে অটোরিকশার চালক ও অগ্নিসংযোগকারীদের মধ্যে নামে ও অজ্ঞাতসহ প্রায় আড়াই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) জসীম উদ্দীন মোল্ল্যা জানিয়েছেন, রোববার দিবাগত রাতে মিরপুরের পল্লবী থানায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়। একটি মামলা পল্লবী থানা পুলিশ ও আরেকটি মামলা পল্লবী ট্রাফিক জোন থেকে দায়ের করা হয়।
এসব মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিক সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর রামপুর, খিলক্ষেত, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় অটোরিকশার চালকরা। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে এদিন কোনো বিশৃঙ্খলা করতে পারেনি তারা।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের ঘোষণার প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১, ১১, কালশী এবং ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রোকেয়া সরণী বিভিন্ন অংশে অবস্থান নেয় চালকরা।
দুপুরে আন্দোলনরত অটোরিকশা চালকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। এরই পরই কয়েকবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুপুর সোয়া একটার দিকে অটোরিকশা চালকরা কালশী সড়ক আটকে দিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় অনেকের হাতে লাঠি দেখা যায়। তারা গাড়ি ভাঙচুর করতেও উদ্যত হয়। তারা সড়কের মাঝখানে রশি টানিয়ে দিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সড়কে তারা গাড়ি আড়াআড়িভাবে রাখতে বাস চালকদের বাধ্য করেন। এতে ওই সড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। গন্তব্যে যেতে মানুষজনকে পায়ে হেঁটে রওনা দিতে দেখা যায়।
বিকেলে একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। প্রথম দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে চাইলে অটোরিকশা চালকরা পুলিশকে ধাওয়া দেয়। পরে পুলিশের সংখ্যা বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশও পাল্টা অ্যাকশনে যায়।
