ছক্কা হাঁকালেন দিদি, বোল্ডআউট মোদী

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ০৮:২৩ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের হাওয়া বদলাতে এসেছিলেন বিজেপি নেতা মোদী আর অমিত শাহ, সেই হাওয়া তো বদলানো গেলোই না, উল্টো ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে দলটি। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২৯ আসনে জয় পেয়েছে। বিজেপি ১২ আসনে এবং কংগ্রেস একটি আসনে।

কিন্তু ‘পশ্চিমবঙ্গে ম্যাজিক দেখাবে বিজেপি’, দাবি করেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভা নির্বাচনে সত্যিই ম্যাজিক দেখালো রাজ্যটি। শুধু ফলটা হলো নেতিবাচক। বুথফেরত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে ঝড় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অর্থাৎ, দিদির ছক্কা হাঁকালেও, বোল্ড আউট হয়ে গেলেন মোদী।

মমতার দলের দাপটে বিজেপির ঝুলিতে থাকতে চলেছে মাত্র ১০টি আসন। কিন্তু কেন? রাজনীতির খেলায় কোন ভুল চালে পশ্চিমবঙ্গে ধাক্কা খেলো বিজেপি? নির্বাচনের মৌসুমজুড়ে বারবার পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। ঝড় তুলেছেন প্রচারে। রোড শো করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। গত নির্বাচনের চেয়েও, এবার কম আসন পেয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলটির এমন বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমেই কাজ করেছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সব জনমুখী প্রকল্প। বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন তিনি।

জনগণের কথা ভেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী থেকে শুরু করে স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড, সমুদ্র সাথী- একের পর এক জনকল্যাণকর প্রকল্প এনেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক ভাতা বেড়ে হয়েছে এক হাজার রুপি, জনজাতিদের জন্য ১ হাজার ২০০ রুপি। তাতেই বাজিমাত!

পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনার চিত্রটিও কাজ করেছে। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনার মতো একের পর এক প্রকল্পে টাকা আটকানোর অভিযোগ উঠেছে মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ ছিলো, রাজ্য সরকার টাকার হিসাব দেয় না। তাই কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না।

কিন্তু সেই ইস্যুকেই বিজেপির বিরুদ্ধে কাজে লাগায় তৃণমূল। দাবি করে, রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভাতে মারার চেষ্টা করছেন মোদী-শাহরা। হাতিয়ার হয় শুভেন্দু-সুকান্তদের মন্তব্যও। এই বঞ্চনা মেনে নিতে পারেনি রাজ্যবাসী, ভোটবাক্সে তা স্পষ্টতই দৃশ্যমান।

দুর্নীতি অস্ত্র ভোঁতা: ‘চাকরি চুরি’, ‘রেশন চুরি’র মতো স্লোগান তুলে ভোট বৈতরণী পার করতে ব্যর্থ বিজেপি। দুর্নীতিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া টাকা ভোটারদের ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতির অভিযোগে বারবার তৃণমূলকে বিদ্ধ করেছেন তিনি। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজলো না। মুখথুবড়ে পড়লো সেই প্রচার।

বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব পশ্চিমবঙ্গে আগুনে ঘি ঢেলেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিকে ধরাশায়ী করেছিল গেরুয়া শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্ব। দিলীপ ঘোষ-সুকান্ত মজুমদার-শুভেন্দু অধিকারীদের আলাদা আলাদা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল থেকে আসা বহু নেতা-নেত্রীকে গুরুত্ব দেয়ায় ক্ষোভ বেড়েছিল।

রাজ্যস্তর থেকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল এই দ্বন্দ্ব। নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন পুরোনো কর্মীরা। এ বছরের লোকসভা ভোটেও এই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের খেসারত দিলো বিজেপি। মমতাকে অশালীন আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতারা বারবার, সেটাও বুমেরাং হিসেবে কাজ করেছে।

২১’র ভোটে মমতা ব্যানার্জীকে ব্যক্তিগত আক্রমণের খেসারত দিয়েছিলেন মোদী-শাহরা। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই ‘ভুল’ থেকে দূরে ছিলেন। কিন্তু দিলীপ ঘোষ, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, অসীম সরকারের মতো নেতারা লাগাতার লাগামহীন মন্তব্য করে গেছেন।

কুৎসিত ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন। কখনো মমতার মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়েছেন, কখনো তার পরিবার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এগুলো মোটেও ভালো চোখে দেখেনি রুচিশীল বাঙালি। ভোটবাক্সে যার জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। সেই সঙ্গে মেরুকরণ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলার মানুষ।

পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জনসভায় দাঁড়িয়ে মোদী-শাহরা বারবার ‘ইসলামফোবিয়া’ তৈরির চেষ্টা করেন। মেরুকরণ করার চেষ্টা করেন। দাবি করেছেন, তৃণমূল বা কংগ্রেস জিতলে রাজ্যের হিন্দুরা কোণঠাসা হবে। কিন্তু সে কথা কানে তোলেনি বঙ্গবাসী। তাই হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা।

আরেক বুমেরাং হয়েছে সন্দেশখালি। গ্রামবাসীর জমি, ভেড়ি দখল থেকে শুরু করে রাতের অন্ধকারে নারীদের তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনা নিয়ে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা ভারতে চর্চা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বেশি শব্দ খরচ করেনি তৃণমূল কংগ্রেস।

তবে দৃঢ়ভাবেই তারা দাবি করেছিল, যেসব অভিযোগ উঠেছে তার সবটা সত্য নয়। অথচ প্রতিটি প্রচারে এটি নিয়ে সরব ছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সন্দেশখালির বেলুন যত ফোলানো হচ্ছে, তাতে ততটা হাওয়া নেই। তাই এ ইস্যুটি কার্যত বুমেরাং হয়ে ওঠে বিজেপির জন্য। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মোদী ম্যাজিকে সাড়া দেয়নি বাংলার মানুষ, দিদির তৃণমূলের কাছে ধরাশায়ী বিজেপি!

 

 

এআর
রাজধানী কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোর মফস্বল শহর থেকে গ্রামের দুর্গা পুজাগুলো কার্যত থিম মন্ডপের আড়ম্বর দেখা যায়। রাজ্যটির সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সকলে পুজার রীতি মেনে অঞ্জলিতে অংশ না নিলেও...
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তরুণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন...
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়া দিল্লি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে যন্তর...
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও প্রকাশ্যে এলো চরম উত্তেজনার দৃশ্য। হুগলিতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষের গাড়িতে ডিম ও পাথর ছুড়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে একদল...
সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নুরুল হকের পরিবার সরকারের কূটনৈতিক সহায়তায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পেয়েছে। প্রাপ্ত এই সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে নিহতের স্বজনেরা আজ...
বরগুনার বেতাগীতে কিশোর গ্যাং, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি এবং ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া চিরতরে নির্মূল করতে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দুই মাসের (৬০ দিন) সময়সীমা বেঁধে...
কেউ যদি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে সে বিষয়ে আইন ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, এখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন...
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অকার্যকারিতা ও ব্যর্থতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর