ভারতের জম্মু কাশ্মীরের ডোডা নামের একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গোলাগুলিতে পাঁচ সেনাসহ ও সন্ত্রাসীদের একজন বিশেষ পুলিশ কর্মকর্তা (এসপিও) আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনও গোলাগুলি চলছে।
কাঠুয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলি চালানো, একজন বেসামরিক ব্যক্তিকে আহত করা এবং রিয়াসিতে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি বাসে ৯ যাত্রী নিহত হওয়ার পর জম্মুতে তিন দিনের মধ্যে এটি তৃতীয় ঘটনা।
এদিকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের তত্ত্বাবধায়ক জম্মু জোনের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনন্দ জৈন জানিয়েছেন, গত রাতে কাঠুয়ায় একটি এনকাউন্টারে একজন সন্ত্রাসীকেও হত্যা করা হয়েছে।
ডোডা ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা গভীর রাতে ছত্তরগালা এলাকায় একটি সেনা ঘাঁটিতে পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের একটি যৌথ দলে ওপর গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে এখনও গোলাগুলি চলছে।
জম্মু পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাঠুয়া হামলায় দুই সন্ত্রাসী জড়িত ছিল এবং তাদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছে। কাঠুয়ার হীরানগর এলাকায় দ্বিতীয় জনের সন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন দিয়ে তাকে খুঁজছে।
আনন্দ জৈন জানান, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে পানি চেয়েছিল। গ্রামের মানুষদের বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা এলাকায় সতর্ক করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। ওই গুলিতে একজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।
তবে কাঠুয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় তিন জন নিহত হয়েছেন, এমন খবর অস্বীকার করেছেন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের এই তত্ত্বাবধায়ক তত্ত্বাবধায়ক।
তিনি কাঠুয়া হামলাকে একটি ‘নতুন অনুপ্রবেশ’ বলে অভিহিত করে পাকিস্তানকে এই হামলার দায়ের ইঙ্গিত করেছেন।
তিনি বলেন, এটা আমাদের শত্রু প্রতিবেশী যারা সবসময় আমাদের দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে।
দুই দিন আগে,শিব খোরি গুহা মন্দিরে যাওয়ার পথে রিয়াসিতে একটি বাস হামলার শিকার হয়। ওই বাস কোম্পানির ম্যানেজার জানান, বাসের চালক যাত্রীদের নামাতে অস্বীকার করার পর সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়, কিন্তু বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার আবু হামজার নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে।
