সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ ওরফে গ্যাস বাবু।
শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত গ্যাস বাবুর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকার আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন অভিযুক্ত বাবু।
এরপর ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে আবেদন করলে তা আমলে নেওয়া হয়।
আনোয়ারুল আজিম আনারের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত গ্যাস বাবু। গত ৯ জুন তাকে ঝিনাইদহ শহর থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুকে সাত দিনের হেফাজতে পায় ডিবি।

এদিকে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার তাকে আটক করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার আট দিনের রিমান্ডে পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গত ১২ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।
এরপর ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।
খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।

সংসদ সদস্যকে হত্যার পর মরদেহ ফেলার কাজে অংশ নেয়া মুম্বাই থেকে ভাড়া করে আনা কসাই জিহাদকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। আরেক অভিযুক্ত নেপালে গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেনকেও নেপালে গ্রেপ্তারের পর কলকাতায় নেয়া হয়েছে।
আর ঢাকায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক চরমপন্থি নেতা আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এদিকে সংসদ সদস্য আনার হত্যার মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহীনের এখনো লাপাত্তা। পুলিশের ধারণা, শাহীন ভারত, নেপাল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন।
আট দিনের রিমান্ডে মিন্টু 