হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির একদিন পর একটি ধর্ষণ মামলায় জামিন পেয়েছেন।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইবুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত এক হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে একই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুর রশিদ জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সোনারগাঁয় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় মঙ্গল পূর্ব নির্ধারিত শুনানি দিন নির্ধারিত ছিল। তবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা করে উপস্থিত হননি। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
মামুনুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমন ফারুক নয়ন জানান, বুধবার তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।
২০২১ সালের তিন এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। খবর পেয়ে হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ওই রিসোর্টে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করেন মামুনুল।
১৮ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা করেন তার সঙ্গে রিসোর্টে অবরুদ্ধ হওয়া নারী।
এক বন্ধুর স্ত্রী ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন মামুনুল হক। তবে গ্রেপ্তারের পর ওই নারী স্ত্রী নয় বলে বলে জানিয়েছিলেন মামুনুল। ওই মুহূর্তে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি আবার মাঝখান দিয়া অন্য কিছু মনে কইরো না’।
তবে রিসোর্টকাণ্ডে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে জবানবন্দিতে ওই নারী বলেন, বিয়ের প্রলোভেন রয়েল রিসোর্ট ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে তাকে বহুবার ধর্ষণ করেন সাবেক এই হেফাজত নেতা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, ওই নারীর স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন মামুনুল। সেই সুবাদে মামুনুলের সঙ্গে তার পরিচয়। পরে স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ হলে মামুনুল তাকে ঢাকায় বাসা রেখে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতেন।
গত বছরের ছয় জুন ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে সাক্ষ্য দেন তার ছেলেসহ এক সাংবাদিক। এ নিয়ে ওই মামলায় মোট ২২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওই মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ অর্ধশতাধিক মামলা হয়। পরে সেসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে এসব মামলায় কারাগারেই ছিলেন মামুনুল হক।
মামুনুলের যতো কেলেঙ্কারি