লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর একের পর এক আক্রমণে রীতিমতো দিশেহারা এখন ইসরাইল। আর তাই তো শেষ পর্যন্ত মাথা বাঁচাতে চায় ইসরাইল। হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইল যুদ্ধ চায় না; চলমান উত্তেজনা নিরসনে তেলআবিব একটি কূটনৈতিক সমাধান চায়।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট স্বয়ং এ তথ্য ‘নিশ্চিত’ করেছেন। তবে সরাসরি নয়, এ বার্তা এসেছে ইসরাইলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।
হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ বেধে যাওয়ার শঙ্কার মধ্যে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেছেন, ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে দুই পক্ষের স্বার্থে একটি কূটনৈতিক সমাধান ‘সম্ভব’। এ ধরনের সমাধান আদৌ তেল আবিব মেনে নেবে কি?
এমন প্রশ্নের কারণও আছে। ইয়োভ গ্যালান্টের কথার কোন ঠিক নেই। সকালের কথা বিকেলেই ফিরিয়ে নেয়াতে তার রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। কারণ গ্যালান্ট কথা বলেন এক সুরে, আর ভিন্ন সুর চড়ান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। আর তখনই নিজেদের কথা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন গ্যালান্ট।
তাই মিলারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো, লেবাননের সঙ্গে সংঘের কূটনৈতিক সমাধানে ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কিনা। জবাবে মিলার বলেন, ইসরাইলের সরকারে নানা মতের লোকজন আছেন। তাদের সবার সঙ্গে তো তিনি নিশ্চিতভাবেই আলাপ করা সম্ভব হয়নি।
যদিও মিলার জোর দিয়েই বলেছেন, ইসরাইলের মন্ত্রী তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ চান না। ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে তারা কূটনৈতিক সমাধান চান। এতে লাখ লাখ ইসরাইলি পরিবার তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। ইসরাইলকেও আর লেবাননের উত্তরে সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে না।

গাজায় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইসরাইলে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। এতে ইসরায়েল সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের ৬২ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়। পাশাপাশি লেবাননের ভেতরে আরও ৯০ হাজারের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলে হামলা আরও জোর করেছে হিজবুল্লাহ।
২০ জুন ইসরাইলের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ কোম্পানি নোগার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাউল গোল্ডস্টেইন সতর্ক করে বলেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও চাইছে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যাতে ইসরাইলের যুদ্ধ না বাধে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন রয়টার্সকে বলেন, ইসরাইল ও লেবাননের বেসামরিক মানুষ যাতে তাদের ঘরবাড়িতে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য কাজ করছে ওয়াশিংটন। কারণ ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে পুরনো শত্রুতার ইতিহাস তো আর ইসরাইলের তেমন যেন সুখকর কিছু নয়।
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইল-হামাসের চুক্তি যখন আলোর মুখ দেখছেই না, তখনই হামলা বাড়িয়েছে হিজবুল্লাহ। এ পরিস্থিতিতে উত্তর ইসরাইলে দু’পক্ষের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের শঙ্কা হিজবুল্লাহ হামলা বাড়ালে ইসরাইলিদের মৃত্যু আরও বাড়বে।
বলিভিয়ায় অভ্যুত্থানচেষ্টা, সাবেক সেনাপ্রধান আটক