ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। রাজ্যের ওয়ানাদ জেলার পাহাড়ি এলাকায় চা বাগানে তিন দফা ভূমিধসের ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত তিন শতাধিক।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা এখনও কাদামাখা চা বাগান ও গ্রামের মধ্যে থেকে জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিধসের ফলে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালালেও ভারী বৃষ্টির কারণে প্রতি মুহূর্তে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।

সেনারা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যেতে নদীর তীব্র স্রোতের ওপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণে চেষ্টা করছেন।
উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে ততই যেন স্পষ্ট হচ্ছে পরিস্থিতির ভয়াবহতা। ধ্বংসস্তূপ সরালেই উদ্ধার হচ্ছে লাশ। আহত দুই শতাধিক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভূমিধস দুটি গ্রাম প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

একটানা প্রবল বর্ষণে আক্রান্ত ওয়েনাড় জেলার রাস্তাগুলো অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ত্রাণ বিতরণ ও জটিল হয়ে পড়েছে। ভূমিধ্বসের আগের দু-দিন অন্তত ৫৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
দ্য হিন্দু জানিয়েছে, দুর্গত মুন্ডক্কাই, চুরমালা, আট্টমালা এবং নুলপুঝা গ্রামগুলো এখন ভূমিধসের কারণে বিচ্ছিন্ন। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া যানবাহনগুলো গাছের গুঁড়িতে আটকে থাকতে এবং অনেক জায়গায় পানিতে ডুবে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
রাজ্যের বনমন্ত্রী এ কে সসেন্দ্রান বলেন, পরিস্থিতি গুরুতর এবং সরকার সমস্ত সংস্থাকে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এলডিএফ সরকারকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বিজেপিপ্রধান জেপি নাড্ডাকে দলীয় কর্মীদের নিয়ে উদ্ধার কাজে সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই প্রসঙ্গে কেরালায় বিজেপির একমাত্র সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপীর সাথে কথা বলেছেন।
হামাসে ইসমাইল হানিয়ার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন