যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন নিয়ে কমলা হ্যারিস আওয়াজ তুলেছেন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে। কথা দিয়েছেন গাজায় শান্তি ফেরানোর। সেই সঙ্গে আমেরিকায় সব মানুষের প্রেসিডেন্ট হবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই নারী।
শিকাগোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির চারদিনের জাতীয় সম্মেলন শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই কমলা হ্যারিস দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ করেন। দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ করার পর সম্মেলনে দেয়া ভাষণে নিজের নীতি স্পষ্ট করেন তিনি। প্রাঞ্জল ভাষায় একের পর এক প্রতিশ্রুতি দেয়ার সময় করতালিতে ফেটে পড়ে সম্মেলন।
ভাষণে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার করেন।

ভাষণে কমলা বলেন, তিনি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হবেন। আমেরিকানদের অতীতের তিক্ততা, নিন্দাবাদ ও বিভেদমূলক লড়াইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বানও জানান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।
কমলা আরও বলেন, তার এই মনোনয়ন একটি নতুন পথ তৈরি করার সুযোগ। দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তবে তা কোন একটি দল বা উপদলের সদস্য হিসেবে নয়, আমেরিকান হিসেবে। তিনি বলেন, আমি সব আমেরিকান নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এ সময় সমর্থকরা তুমুল করতালি দেন।
জাতি এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে কমলা বলেন, আমি দেশকে পুরো হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি। আমি যেখানেই যাই, যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয়, আমি এমন একটি জাতি দেখতে পাই, যে জাতি এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, পরবর্তী পদক্ষেপ ও অবিশ্বাস্য যাত্রার জন্য প্রস্তুত। এটাই আমেরিকা।

কমলা হ্যারিস বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়াস মানুষ নন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবার হোয়াইট হাউসে আনার প্রতিক্রিয়া খুবই গুরুতর হতে বাধ্য। ওই ভাষণে নিজের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে কমলা হ্যারিস বলেন, প্রেসিডেন্ট হতে পারলে তিনি ইউক্রেন ও ন্যাটোর পাশে শক্তভাবে দাঁড়াবেন।
তার মতে, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় এসেছে। বন্দিদের মুক্তি দেয়া জরুরি। আমি সবসময়ই ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে। কিন্তু গাজায় যা হয়েছে তা ভয়ংকর, হৃদয়বিদারক। প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং আমি এই যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করেছি। আমরা চেয়েছি, ইসরাইল যেন সুরক্ষিত থাকে এবং বন্দিরা যেন মুক্তি পান। ফিলিস্তিনি মানুষরা যেন মর্যাদা, সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়নার নেওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তে কমলা বলেন, আমি বিশ্বজুড়ে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করছি। গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারের মধ্যকার স্থায়ী সংগ্রামে আমাদের অবস্থান কোথায়, তা আমি জানি। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কোথায়, তা-ও আমি জানি।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্প স্বৈরাচারদের প্রতি নমনীয় অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের চলমান লড়াইয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্র ও আমার নৈতিক অবস্থান জানি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমেরিকা একটি ভালো ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।
শিকাগোয় মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছিলো ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় কনভেনশন। বৃহস্পতিবারই ছিলো শেষ দিন। সেখানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পাশাপাশি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, প্রাক্তন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ প্রবীণ ডেমোক্র্যাট নেতারা কমলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
জো বাইডেন মিত্রদের চাপে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলে মাত্র মাসখানেক আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে কমলা হ্যারিস মনোনীত হন। আগামী ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে কমলার প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কিয়েভে জেলেনস্কিকে বুকে টেনে নিলেন মোদী