পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আলাদা হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাতে সোমবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তান প্রদেশের লাসবেলা জেলার বেলাত শহরের একটি প্রধান মহাসড়কে যানবাহন লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। হামলায় ১৪ জন পুলিশ ও সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিন মুসাখাইল জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটির হামলায় ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এসময় তারা ৩৫টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলাকারীরা পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে এসে হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রশাসনিক বিভাগ কালাতে একটি পুলিশ চেকপোস্ট এবং একটি হাইওয়েতে হামলায় ১০ জন নিহত নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ এবং পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক।
একইদিনে বোলান শহরের একটি রেল সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রেলওয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাশিফ জানান, বিস্ফোরণের পর কোয়েটার সঙ্গে রেল চলাচল স্থগিত করা হয়।
পুলিশ বলছে, রেলওয়ে সেতুতে হামলার স্থানের কাছে ছয়টি অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া গেছে।
বেলুচিস্তানভিত্তিক লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এসব হামলা চালিয়েছে বলা ধারণা করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা বেসামরিক পোশাকে ভ্রমণকারী সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
যদিও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতদের অধিকাংশই নির্দোষ নাগরিক।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি আদালা বিবৃতিতে মুসাখাইল হামলাকে ‘বর্বর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং হামলাকারীদের রেহাই দেয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল
সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কায় তেল আবিবে ২৪০ বোমা শেল্টার চালু