মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়ার পর চিকিৎসক ও নারী নিয়ে কু মন্তব্য করেছেন দলটির কয়েকজন নেতা। এসব ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে নেট দুনিয়াতে চলছে তুমুল চর্চা।
রোববার সোনারপুর দক্ষিণের তারকা বিধায়ক লাভলি মৈত্র দলের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বলেন, ডাক্তাররা কি মানুষ? কসাইয়ে পরিণত হচ্ছেন ডাক্তাররা। তিনি বলেন, বদল হয়ে গিয়েছে, এবার বদলাও নিতে হবে। নাম করে সুজন চক্রবর্তী, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণও শানান লাভলিকে।
সেই লাভলিকেই এবার সতর্ক করে দিয়েছে দল। মঙ্গলবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব লাভলি মৈত্রকে সতর্ক করে বলেছে, তৃণমূলের অন্দরের খবর বাইরে প্রকাশ করা যাবে না। এ ধরনের মন্তব্য করে জটিল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করা থেকে বিরত থাকার বার্তাই দেওয়া হয়।
একই দিনে অশোকনগরের সাবেক পৌর কাউন্সিলার অতীশ সরকার বলেন, যারা মমতার ছবি তৈরি করে আক্রমণ করবে তাদের পরিবারের নারীর ছবি বিকৃত করে দরজায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে, যা খোলা যাবে না।
রোববার কোন্নগর শহর ও নবগ্রাম নারী তৃণমূলের উদ্যোগে ধরনামঞ্চে যোগ দেন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক ।
সেখানে ধর্ষকদের ফাঁসি দাবি করার পরক্ষণেই আন্দোলনকারী ডাক্তারদের কর্মবিরতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অনেক সরকারি কর্মচারি কর্মবিরতিতে রয়েছেন। তারা সরকারের থেকে বেতন নিচ্ছেন তো নাকি? বোনাস নেবেন তো, না সেটা প্রত্যাহার করবেন?
এই তিন মন্তব্যে নিন্দার ঝড় ওঠে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে। সমাজিক মাধ্যম থেকে টিভি চ্যানেলের টক টকশো প্রতিবাদে মুখর হলে সোমবার রাতে দলের কর্মীদের মন্তব্য করা নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নেন মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক গণরোষ প্রশমিত করতে পার্টির নেতা-কর্মীদের বিনয়ী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন। স্পষ্টভাষায় বার্তা দেন তিনি। নাগরিক সমাজ, চিকিৎসক সমাজের কণ্ঠ কোনওভাবে রুদ্ধ করার চেষ্টা চলবে না। নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সকলেরই আছে। দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের এমন বার্তার পর পরই কাঞ্চন মল্লিক নিজের মন্তব্যের জন্য ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে ক্ষমা চান।
পিসি মমতার ফোঁস করে ওঠা আর ভাতিজা অভিষেকের বিনম্র হওয়ার নির্দেশে বিভ্রান্ত ও বিরক্ত তৃণমূলের একাংশ। যা নিয়ে টিপ্পনী ট্রোল চলছে সমাজিক মাধ্যম থেকে বাস্তবে।
এফ সিক্সটিন ধ্বংসের তথ্য ঘোরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?