পুরো মুসলিম বিশ্ব ফিলিস্তিন এবং লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন নিয়ে উচ্চকণ্ঠ। নিপীড়িত ফিলিস্তিনি এবং লেবানিজদের রক্তের বদলা চায় মধ্যপ্রাচ্য। এমনকি মুসলিম বিশ্বের বাইরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কিংবা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে পাশে থাকে ইরানের।
কিন্তু মুসলিম পরাশক্তি সৌদি আরব কেন ইরানের পাশে নেই। এই রাষ্ট্রটি কেন নিপীড়িত মানুষদের হয়ে কথা বলেনা? সৌদি আরব-ইরানের মধ্যে এতো কিসেরই বা দ্বন্দ্ব?
আরব বিশ্বের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সৌদি এবং ইরান। আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশই সমান তৎপর। দেশ দুটোর মধ্যে বৈরিতার ইতিহাস বহু পুরোনো। পুরো অঞ্চলজুড়েই আছে ইরানের প্রক্সি বাহিনী। যেটি মানতে নারাজ রিয়াদ। ইরানের শক্তি মানতে না পেরে সৌদির অভিযোগ, তেহরান আঞ্চলিকভাবে বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক।

নানা কারণে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও দুই দেশের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ চলছে বছরের পর বছর। সেইসাথে ইরানে শিয়া সম্প্রদায় আর সৌদিতে সুন্নি সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে তাদের দুইভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে।
সর্বশেষ লেবাননেও মুখোমুখি সৌদি আরব ও ইরান। লেবাননের শক্তিশালী সংগঠন হিজবুল্লাহ। যারা সরাসরি ইরানের সহযোগিতা পেয়ে থাকে। এসব কারণে আঞ্চলিক নানা জটিলতায় ইরান এবং সৌদি আরব দুই মেরুতে বসবাস করে। সৌদি আরবের সাথে মুসলিম দেশ হয়েও একই পথে হাঁটছে জর্ডানও।
ইসরাইল-ইরানকে নিয়ে রীতিমতো মহাবিপত্তিতে আছে দেশটি। ভৌগোলিকভাবে জর্ডানের অবস্থান এমন অবস্থায় রয়েছে যে ইরান-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে জর্ডানের ওপর।

আবার পশ্চিমাদের সাথে জর্ডানের রাজতন্ত্রেরও বেশ ভালো সম্পর্ক। গত ২৫ বছর ধরে জর্ডানের বাদশাহ রয়েছেন দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। পর্দার আড়ালে জর্ডানের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্কও একেবারে খারাপ নয়। সেখানে আছে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি শরণার্থীও।
পশ্চিমা সম্পর্ক, ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে ইরান জর্ডানকে কখনোই পাশে পায়না। এমনকি এপ্রিলে ইসরাইলে ইরানের প্রথম মিসাইল হামলার সময় জর্ডান তার আকাশে থাকা অনেকগুলো মিসাইল ধ্বংস করে দেয়।
সবশেষে আসে মিশর। ফিলিস্তিন সীমান্তবর্তী সত্ত্বেও নিপীড়িত মুসলিমদের নিয়ে সরাসরি কখনোই কথা বলতে দেখা যায় না ঘুমন্ত দৈত্য খ্যাত মিশরকে। যদিও সম্প্রতি তুরস্কের সাথে মিশরের সম্পর্কের বরফ গলেছে। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির তুরস্ক সফরের পর ফিলিস্তিন ইস্যুতে কিছুটা তৎপরতা দেখা গেছে মিশরের। সীমান্তে দেখা গেছে তাদের সৈন্য সমাবেশও।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবন বদলে দেয়া এক সফর
ইরানের পাশে রাশিয়া, চীন ও কাতার