ভেঙে পড়া অর্থনীতিই সিরিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:১৪ পিএম

গত প্রায় ১৪ বছর ধরে গৃহযুদ্ধের ফলে সিরিয়ার অর্থনীতির অবস্থা বেশ খারাপ হয়েছে। আর্থিক দিক থেকে ঘুরে দাঁড়াতে তাদের গোটা বিশ্বের সাহায্য ও সহযোগিতা দরকার। কিন্তু কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সে পথ সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, দেশ থেকে ৪৮ লাখ মানুষের চলে যাওয়ার ফলে সিরিয়া এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গরিব দেশ বলে পরিচিত।

অথচ ২০১১ সালে সিরিয়ার অর্থনীতির পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। বিশ্বের ১৯৬টি দেশের মধ্যে অর্থনীতির নিরিখে সিরিয়া ছিল ৬৮তম স্থানে। প্যারাগুয়ে ও স্লোভেনিয়ার সঙ্গে তুলনীয় ছিল তাদের জিডিপির পরিমাণ। কিন্তু গতবছর তারা ছিল ১২৯তম স্থানে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতে, তাদের অর্থনীতি এখন ৯০০ কোটি ডলারের। এখন চাদ, ফিলিস্তিনের সঙ্গে তাদের তুলনা চলে।

জাতিসংঘের শাখা সংগঠন ওসিএইচএর মতে, দেশের ৭০ লাখ মানুষ এখন গৃহহীন। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে দেশের পরিকাঠামোর অবস্থা খুবই খারাপ। বিদ্যুৎ, পরিবহন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা বেহাল। প্রচুর শহরে ধ্বংসের চিহ্ন ছড়িয়ে আছে। এই সংঘাতের ফলে সিরিয়ার পাউন্ডের মূল্য কমেছে। তার ফলে সিরিয়ার মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও পাল্লা দিয়ে কমেছে।

সিরিয়ার অর্থনীতির দুই স্তম্ভ হলো- তেল ও কৃষি। যুদ্ধের ফলে তাতে ধাক্কা লাগে। ২০১০ সালে তেল রপ্তানি করে সরকারের রাজস্বের এক-চতুর্থাংশ অর্থ আসত। কৃষি থেকেও সমপরিমাণ অর্থ আসত। কিন্তু আসাদের কাছ থেকে বিদ্রোহীরা, আইএস এবং কুর্দিশ বাহিনী তেলের খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে সরকারও বিদেশে তেল রপ্তানি করতে পারে না। আসাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় তেলের উৎপাদন ২০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। সিরিয়া পুরোপুরি ইরান থেকে আমদানি করা জিনিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

এবার সিরিয়ায় যারা ক্ষমতায় থাকবে তাদের শহরগুলোকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, কৃষি এবং তেলের ক্ষেত্রকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

কিছু সিরিয়া বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ২০১১ সালের জিডিপিতে পৌঁছতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে। তবে এরপর যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তাহলে সিরিয়ার অবস্থা আরও খারাপ হবে।

সিরিয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এই সংগঠনকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গি সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে। পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো মনে করছে এইচটিএসের সিরিয়া শাসনের অর্থ হলো- আসাদকে সরিয়ে কট্টরপন্থী শাসনের সূচনা হওয়া। এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা সিরিয়াকে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন না।

একাত্তর/আরএ
ইরানিরা এখন এক ত্রিমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন, একদিকে চার সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের ভয়াবহতা আর তেহরানের পাল্টা হামলা; অন্যদিকে ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি এবং দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম...
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নিজেদের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। সোমবার সকালে হাসাকা প্রদেশের ‘কাসরাক’ ঘাঁটি থেকে ডজনখানেক ট্রাককে...
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ওপর আগামী দুই বছরের জন্য দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি...
মৃত সাগর (ডেড সি) অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জর্ডানে...
আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থীরা বর্তমান দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব অভ্যুত্থান...
ঢাকায় কর্মরত কুমিল্লা জেলার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র (সিজেএফডি) নির্বাহী কমিটির নির্বাচন-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদ খান...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর